শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

জীবনের গল্প বললেন শত নারী উদ্যোক্তা

জীবনের গল্প বললেন শত নারী উদ্যোক্তা
সংগৃহীত

কেউ রাঁধুনি, কেউ শাড়ি-থ্রি পিস বিক্রেতা। কেউ চাকরি ছেড়ে গড়ে তুলেছেন পাট ও চামড়া শিল্পজাত পণ্যের কারখানা। অগ্রযাত্রায় কেউ কেউ মোকাবিলা করেছেন সমাজের কটূক্তি, বাধা। অনেকে পাননি পরিবারের সমর্থনও। তবুও তারা থেমে থাকেননি। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছুড়ে ফেলেননি মন থেকে। আর এভাবে তারা দেখেছেন সাফল্যের মুখ। সে সঙ্গে অন্য অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করে চলেছেন।

এ গল্প একদল উদ্যমী নারীর। সংসার সামলানোর পাশাপাশি তারা এখন সফল উদ্যোক্তা। এমনই একজন মর্জিনা খাতুন। নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন পাট ও চামড়া পণ্যের কারখানা। তাঁর কারখানায় নিয়মিত ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। সেখানে তৈরি হয় দুই শতাধিক ধরনের পণ্য। এসব কাজে আগ্রহীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় কারখানায়। এখন প্রতি মাসে মর্জিনার আয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। তিনি জানান, ছোট থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। অনেক পরিশ্রমের পর তিনি তা হতে পেরেছেন। বাজারে তাঁর কারখানায় তৈরি পণ্যের ভালো চাহিদা আছে।

গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১২০ জন নারী উদ্যোক্তা নিয়ে ‘জীবনের গল্প’ সেমিনারের আয়োজন করে সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘উদ্যোক্তা’। রাজধানীর কাপ্তানবাজারে খন্দকার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভোকেশন সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হয়। এতে নারী উদ্যোক্তারা সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
আরেক উদ্যোক্তা ফারজানা খান আজমি। অনলাইন ও অফলাইনে খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ফেসবুকে ‘জলচৌকি’ নামের পেজ থেকে প্রচারণা চালান। দক্ষিণ বনশ্রীতে তাঁর নিজস্ব দোকানও আছে। মিষ্টি-পিঠাসহ নানা রকমের খাবার নিয়ে তাঁর যাত্রা। মাত্র চার বছরের উদ্যোগে তিনি সফল হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।
উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা জানান সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, নারীরা উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকে। পরিবারের অনাগ্রহ ও সামাজিক সমালোচনা মোকাবিলা করতে হয়। সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়া ও বৈদেশিকবাণিজ্যের সুবিধা না পাওয়ায় উদ্যোগ আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

বিশিষ্ট উদ্যোক্তা হাসিনা আনসারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার গ্রুপের চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, নারীরা এখন কোনো দিকে পিছিয়ে নেই। দেশ এগিয়ে যাওয়ার পেছনে নারীর অবদান অনেক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নারীদের কেবল উদ্যোক্তা হলেই হবে না, সব জায়গায় যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। দেশের উন্নয়নে নারীরা অসামান্য ভূমিকা রাখছেন। তাদের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান, ইনভেস্টম্যান সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ জেড এম আজিজুর রহমান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আলমগীর প্রমুখ।

সূত্র: সমকাল

সর্বশেষ

জনপ্রিয়