• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১১ রজব ১৪৪৪

আমে লোকসান হলেও খেজুর চাষে লাভবান মোশাররফ!

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২২  

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের মোশাররফ হোসেন সৌদি খেজুর চাষে সফল হয়েছেন। জন্ম ফলের রাজা আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হলেও প্রতি বছর বিপুল পরিমানে আম নষ্ট হতে দেখে অন্য ফল চাষাবাদের চিন্তা তার মাথায় আসে। তাই ২০১৯ সালে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করেন খেজুরের বাগান।

২০১৯ সালে ২ বিঘা জমিতে শুরু করা বাগানে ১৩০০ খেজুর গাছ লাগিয়েছিলেন। এখন তার খেজুর বাগানের পরিধি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে। যেখানে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গত বছর মাত্র দেড় বছর বয়সী গাছে খেজুরের ফলন আসায় মোশাররফ সহ হতবাক স্থানীয়রা। মোশাররফ হোসেনের বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা-পাকা সৌদি খেজুর।

ইউটিউব দেখে ও প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন সৌদি খেজুরের বাগান। তার বাগানে এখন ঝুলছে বিখ্যাত আজোয়া, মরিয়ম, দাবাস, বারিহী, চেগিসহ অন্তত ১০ জাতের খেজুর। প্রতিনিয়ত মোশাররফ হোসেনের খেজুর বাগান দেখতে আসছে আশপাশের তরুণ ও কৃষি উদ্যোক্তারা। তার বাগান দেখে অনেক তরুন খেজুরের বাগান করতে আগ্রহী হয়েছেন। এতে বাড়বে আত্মকর্মসংস্থান।

অনেকেই মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে চারা নিয়ে সৌদি খেজুর চাষাবাদ শুরু করেছেন। প্রথম দিকে চারা উৎপাদন করতে গিয়ে নানা রকম ভোগান্তি ও লোকসানের মধ্যে পড়তে হয় মোশাররফ হোসেনকে। এমনকি সরাসরি খেজুর বাগান দেখতে ছুটে গেছেন ময়মনসিংহ।

মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রতি বছর হাজার হাজার মণ আম নষ্ট হতে দেখে অন্য ফল চাষের চিন্তা করি। এমন ফলের চাষ করতে চাচ্ছিলাম যেটা সহজে নষ্ট হয়না। তাই সৌদি খেজুর চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এরপর ইউটিউব ও প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে শুরু করি সৌদি খেজুরের চাষাবাদ। পারিবারিক সমর্থন না পেয়ে অন্যের জমি ইজার নিয়ে বাগান করি।

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই নানা রকম হাসি-ঠাট্টা, উপহাস করেছিল আর বলছিলো যে আমের জেলায় খেজুর চাষ বিশেষ করে সৌদি খেজুর চাষ এতো অসম্ভব। তবে সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা করায় দেড় বছরেই গাছে খেজুর আসা শুরু করে। এতে তাদের ভূল ধারনা ভেঙে যায়। চলতি বছর প্রায় সাড়ে ৩ শত গাছে খেজুর এসেছে। গত বছর যা প্রায় ৩ শত গাছে ছিল। আগামী বছর আশা করি আরও বেশি গাছে খেজুর আসবে।

কৃষি উদ্যোক্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রথম ২ বছর খেজুর বিক্রি করিনি। শুধুমাত্র খেজুর ও গাছের চারা নয়, আগামীতে খেজুর গাছের পাতা থেকে শীতল পাটি তৈরি করে পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে যখন এমন একটি জায়গায় খেজুর বাগান করছিল, তখন আমরাই নানারকম কথা বলেছি। এই জমিতে কীভাবে খেজুর চাষ হয় তা আমাদের ভাবনাতেও আসেনি। দুই বছর পর যখন তার বাগানে এ রকম থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা খেজুর দেখলাম, তখন অবাক হয়েছি। খেয়ে দেখলাম পুরোপুরি সৌদি আরবের খেজুরের মতোই স্বাদ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) রাজিবুর রহমান বলেন, সৌদি খেজুর চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাষাবাদ করা সম্ভব তা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি একটু কষ্টকর। বৃষ্টির সময় ফল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা