• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০২২  

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে সারাবিশ্বেই শিক্ষা ব্যয় তুলনামূলক অনেক বেড়েছে। তাই, অনেকের জন্যই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে পড়াশোনা চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। তবে পড়াশোনার এই খরচ নির্বাহের জন্য অন্যতম একটি উপায় হলো বৃত্তি পাওয়া। 

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে। আগামী বছর বিশ্বের প্রায় ৭% শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এক্ষেত্রে, বৃত্তি বিষয়ক খোঁজখবর রাখা জরুরি। কীভাবে বৃত্তি খুঁজতে হবে, আবেদনের প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের পদ্ধতি জানা গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক এসব বিষয়ে কিছু তথ্য-

কলেজে পড়ার খরচ তুলনামূলক বেশি

মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকেই টিউশন ফি, আবাসন, বই ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাবদ অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। 

ডিগ্রি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলোকেও এখন তালিকাভুক্ত হতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। আর এই ব্যয় নির্বাহের জন্য কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়িয়ে দেয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে হাইস্কুল ডিগ্রিধারীদের চেয়ে ৫২৫ ডলার (প্রায় ৫৪ হাজার ৭১৩ টাকা) বেশি আয় করতে পারেন। এ কারণে কলেজ শিক্ষার অর্থায়নের জন্য অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবার বৃত্তির কথা ভাবেন।

কলেজের বৃত্তি

যেকোনো বৃত্তি পাওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। এজন্য প্রথমেই একটি আকর্ষণীয় জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে হবে। জীবনবৃত্তান্তে অবশ্যই পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপ ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নেতৃত্বের দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে।

যোগ্যতা অনুযায়ী বৃত্তি খুঁজতে হবে

অনেক স্কলারশিপ ওয়েবসাইটে ওই বৃত্তি পাওয়া যোগ্যতা উল্লেখ করা থাকে। সেখান থেকে ওই বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে কি না, তা সহজেই জেনে নেওয়া যায়। এছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে আগ্রহ, বিষয় ও যোগ্যতা নির্বাচন করে বৃত্তির তথ্য পাওয়া যায়।

আবেদনের জন্য যা জানা প্রয়োজন

আবেদনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা আগে ভালো করে বুঝে নিতে হবে। নির্ধারিত স্কুল–কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির নিয়ম জেনে নিতে হবে। যেমন কলেজে চার ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। এগুলো হলো—ফেডারেল অনুদান (৪৭%), স্কুল বৃত্তি (৩৫%), প্রাইভেট স্কলারশিপ (৩৫%) ও রাষ্ট্রীয় অনুদান (৮%)। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আবেদনে আলাদা আলাদা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ফেডারেল অনুদানের জন্য আবেদন করতে হলে ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড (এফএএফএসএ) ফরম পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি প্রবন্ধসহ অন্যান্য উপকরণ জমা দিতে হয়।

আবার প্রাইভেট স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে আবেদনের যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। সেই সব যোগ্যতা আবেদনকারীর পূরণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।

আবেদনের প্রস্তুতি

আবেদনকারী কোন বৃত্তির জন্য যোগ্য, তা নিশ্চিত জানা হলে আবেদন করতে কী কী নথি ও বিষয় প্রয়োজন, সে দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যেসব বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে, আবেদনের সময়সীমা ও আবেদনে কী কী লাগবে, তার একটা তালিকা তৈরি করে নিতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও লেটারস অব রেকমেন্ডেশনসহ আবেদনের জন প্রয়োজনীয় উপকরণ গুছিয়ে হাতের কাছে রাখতে হবে, যেন প্রয়োজন হলেই তা দিয়ে দেওয়া যায়।

সর্বোপরি, লেখার দক্ষতা বাড়াতে হবে। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গ্রেড, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষার স্কোর ও প্রবন্ধ লেখা। চার নম্বর বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে আবেদন গ্রহণ হবে কি না। প্রবন্ধ লেখার দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লেখার অনুশীলন করতে হবে। ইন্টারনেটসহ নানা উৎস থেকে নমুনা প্রবন্ধ পর্যালোচনা করতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা