• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

একাদশে এবার ৯৩ শতাংশ আসনে ‘মেধায়’ ভর্তি

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২২  

উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন ধাপে আবেদন গ্রহণ শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। এবার কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে ৯৩ শতাংশ আসন ‘মেধায়’ পূরণ করা হবে। এ সংখ্যক আসনে এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হবে না। বুধবার ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২২ এ অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এরপর সেটি শিক্ষা বোর্ডগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।  

নতুন নীতিমালায় এবার ‘কোটা’য় কিছুটা সংস্কার আনা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ শতাংশ কোটার বাইরে নতুন করে ‘শিক্ষা পরিবার কোটা’ যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ  শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী যে মহানগর/বিভাগ/জেলায় কর্মরত থাকবেন তার সন্তান সে মহানগর/বিভাগ/জেলায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। এ কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায় তবে এ আসন আর কার্যকর থাকবে না। প্রবাসীর সন্তান ও প্রতিবন্ধীরা ভর্তি হতে পারবে। তবে কোটায় নয়, শিক্ষা বোর্ডের সুপারিশে বিশেষ বিবেচনায়। আনুষ্ঠানিক ক্লাস শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি। এর আগে ভর্তি নীতিমালা ২০২২ এর খসড়া চূড়ান্ত করতে গত ১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কলেজ প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে বসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই সভার সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। 

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মু. ফজলুর রহমান ভোরের ডাককে বলেন, খসড়া নীতিমালা বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষে তা জারি করা হবে। এবার নতুন করে ‘শিক্ষা’ কোটা যুক্ত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর তপন কুমার সরকার ভোরের ডাককে বলেন, আগের পদ্ধতিতে এবারও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে এবার ভর্তিতে ২ শতাংশ ‘শিক্ষা’ কোটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিক ভর্তির আবেদন শুরু করতে চাই। অনলাইনে যেকোনো সমস্যা হলে ভর্তির হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন চেয়ারম্যান। 

নীতিমালায় এবারও ঢাকাসহ অন্য মেট্রোপলিটন ও পৌর শহরের প্রতিষ্ঠানের জন্যও ফি আদায়ের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আসনের ৯৩ শতাংশ ভর্তি করা হবে ‘মেধায়‘। বাকি ৭ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকবে মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তান বা সন্তানের সন্তানের জন্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্তÍ সকল দপ্তর-প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য। সূত্র জানায়, সনাতনী পদ্ধতি বাতিলের পর থেকে অনলাইন ও এসএমএস- উভয় পদ্ধতিতে ভর্তির আবেদন নেয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে এসএমএসে আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও ভোগান্তি তৈরি হয়। বোর্ডগুলো অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, একশ্রেণির স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের আবেদন এসএমএসে পূরণ করে দিচ্ছে। আবার কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকলে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলতে সেও এ ধরনের অপকর্ম করে থাকে। এভাবে অনেকে পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারে না। আবার এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় মোটা অঙ্কের টাকা গচ্চা দিয়ে এরপর অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হয়। শিক্ষার্থীদের এমন জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারে বোর্ড এসএমএসে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে দিয়েছে।

নীতিমালায় শিক্ষার্থীর ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট/ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি ফি বাবদ ২২৮ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। এর বাইরে এবার নতুন করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীচের কল্যাণ ও অবসর সুবিধা সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা করে ‘শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি‘ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতার পেছনে ব্যয় করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থের অভাবে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা পূরণ করা যাচ্ছে না। যে কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই চাঁদা ধরা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ মন্ত্রণালয়ের আরও অনেক দপ্তরের কাছে এভাবে চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। নীতিমালায় আছে- অনলাইনে ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসায় আবেদন করা যাবে। এর জন্য নেয়া হবে ১৫০ টাকা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর এসএমএস করে ভর্তির জন্য আবেদন করা যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। 

এ ছাড়া আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তি ফি ৭ হাজার ৫০০ (বাংলা মাধ্যম) ও ৮ হাজার ৫০০ টাকা (ইংরেজি মাধ্যম)। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা, জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। নীতিমালা অনুযায়ী, এবার একাদশ শ্রেণির অনলাইনে প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হবে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে ১৮ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তনকারীরা ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন শুরু হবে ৯ জানুয়ারি, ১০ জানুয়ারি শেষ হবে। 

দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ১২ জানুয়ারি। আর তৃতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত নেয়া হবে। ১৮ জানুয়ারি রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। জানা যায়, সারাদেশে ৯ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা চলে। সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আছে ৫৬৫টি। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন কমার্স প্রতিষ্ঠান সাতটি এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ১৮শ। কলেজ ও মাদরাসায় আসন আছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯টি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে আছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ আসন রয়েছে। এর মধ্যে এইচএসসি ভোকেশনালে পৌনে তিন লাখ, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিতে (বিএমটি) চার লাখ আসন। সব মিলে আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩৩ লাখ। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা