• শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

শান্তিডাঙ্গার শান্তিময় ক্যাম্পাস

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ৪২ বছরের গৌরবময় পথচলা শেষে ৪৩তম বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি।  একুশ শতকের উপযোগী বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ভিশন নিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরের ছায়াঢাকা বিস্তীর্ণ প্রান্তরের মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় এটি। প্রতিষ্ঠার পর স্থানান্তর জটিলতায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাই এক অধ্যাদেশে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর থেকে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। পরে ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টি গাজীপুর থেকে আবার শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে ফিরে আসে। ১৯৮১ সালে প্রথম উপাচার্য হিসেবে ড. এ এন এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীকে নিযুক্ত করা হয়। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪টি বিভাগে ৮ জন শিক্ষক ও ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় একাডেমিক কার্যক্রম। 

আয়তন ও অবকাঠামো
বর্তমানে ১৭৫ একর আয়তনের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ২০৯৫টি আসন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৬টি একাডেমিক ভবন, ৫টি ছাত্র হল, ৩টি ছাত্রী হল, ক্যাম্পাসভিত্তিক সবচেয়ে বড় শহীদ মিনার রয়েছে ইবিতে, ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদও রয়েছে এখানে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি হিসেবে রয়েছে স্মৃতিসৌধ এবং মুক্ত বাংলা ভাস্কর্য। রয়েছে ১২০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) ও ক্যাফেটেরিয়া, গ্রন্থাগার, উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, আধুনিক ব্যায়ামাগার, জাতির পিতার স্মৃতি স্মারক ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’, ডাকঘর, ইবি থানা ও গরিবের হাতিরঝিল। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থী
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ, ১টি ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ১টি স্কুল রয়েছে। শিক্ষার্থী রয়েছেন ১৫ হাজার ৩৮৪ জন, যাঁদের মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ২৯১ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯৩ জন। বিদেশি শিক্ষার্থী ৩২ জন। ৩৯৪ জন শিক্ষক, ৪৭৩ জন কর্মকর্তা, ১১৭ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ১৭১ জন সাধারণ কর্মচারী। প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুসারে প্রস্তাবিত বিভাগসহ মোট ৫৯টি বিভাগ চালু করা হবে। 

শিক্ষাকার্যক্রম
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদ থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, ইনঞ্জিনিয়ারিং, মাস্টার্স ডিগ্রি, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একটি ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একটি 'ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ' রয়েছে। 

গবেষণায় সাফল্য
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েবোমেট্রিক্সের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং-২০২২ এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৭ তম।
এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৭ জন শিক্ষক স্থান পান। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণণে তাল ও ওলকচু জাদুকরি গুণসম্পন্ন বলে প্রমাণ করেছেন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ শাহীনুর রহমান। তিনি গবেষণায় দেখান, ডায়াবেটিসের মাত্রা খুব বেশি না হলে তাল ও ওলকচু তা স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে সক্ষম। এমনকি ডায়াবেটিস চরম মাত্রায় পৌঁছালেও তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আমাদের অতিপরিচিত তাল ও ওলকচু। ইভিনিং প্রিমরোজ দেশেই ফুটবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ইভিনিং প্রিমরোজ সূর্যমুখীর বিশেষ একটি জাত। এই ফুলের বৈশিষ্ট্য হলো ফুলদানিতে দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে এবং শুকিয়ে যাওয়ার পরও সুবাস ছড়ায়। এটি মূলত শীতপ্রধান দেশের ফুল। 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী অনেক সংগঠন রয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি যোগ্য সংগঠক হিসেবে গড়ে ওঠার সুব্যবস্থা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সংগঠন-থিয়েটার, চলচ্চিত্র সংসদ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রোটার‍্যাক্ট ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব, আইটি সোসাইটি, তারুণ্য, আবৃত্তি, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, কনজুমার ইয়ুথ, লণ্ঠন, কাম ফর রোড চাইল্ড, ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম, চিত্রপট, ফটোগ্রাফি সোসাইটি। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উৎসব
পয়লা বৈশাখ, পিঠা উৎসব, বসন্তবরণ, বইমেলা, ব্যাচডে আনন্দঘন পরিবেশে এসব উৎসব পালন করা হয়। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন গভীর মিতালি করেছে এই ক্যাম্পাসের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর, আমবাগান, কাঁঠালবাগান, আমলকীর বাগান, মেহগনিবাগান, লিচুবাগান, বঙ্গবন্ধু হলসংলগ্ন পুকুরঘাট, গরিবের হাতিরঝিল এক একটা স্থান যেন এক একটা পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ক্যাম্পাস দেখতে আসেন হাজারো সৌন্দর্যপ্রেমী।

অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য শুধু সমুন্নত রাখাই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরও বেশি করে মনোনিবেশ করেন, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে। এভাবে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা যাবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীনে অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এতে সবার জন্য অবকাঠামোগত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা