• বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

গতি ফিরেছে অর্থনীতিতে

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২২  

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ অর্থ খুশি। এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয় যখন সঙ্গে থাকে নতুন জামা-জুতা শাড়ি কিংবা বাহারি সব প্রসাধন সামগ্রী। এজন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি কেনাকাটার। ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদ উৎসবের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। ক্রেতার ঢল নামছে নগরীর মার্কেট, শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে। করোনা সংক্রমণের ভীতি দূর হওয়ায় দুবছর পর এবার বর্ণিল ঈদ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশবাসী। দেশের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব ঘিরে গতি ফিরে এসেছে অর্থনীতিতে। শুধু পোশাক-আশাকই নয়, ঈদ সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সব খাতে কেনাকাটা বেড়েছে। আত্মীয় স্বজনের কাছে প্রবাসীরা বেশি করে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। কয়েকদিনের মধ্যে সরকারী-বেসরকারী খাতের চাকরিজীবীরা পাবেন ঈদ বোনাস। ইতোমধ্যে পহেলা বৈশাখের ভাতা পেয়েছেন। শহর থেকে গ্রামে-সব জায়গায় কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের আমেজ নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার নগরবাসী ঈদ কেনাকাটায় শামিল হয়েছেন। গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স, মিরপুর রোড, নিউ এ্যালিফ্যান্ট রোডসহ ঢাকার প্রায় সব মার্কেটে মানুষের ঢল নেমেছে। প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, নূর ম্যানশন, নুরজাহান মার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটজুড়ে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতাদের ভিড় আর ফুটপাথের বিক্রেতাদের হাঁকডাক এবং রাস্তায় মানুষ আর নানা যানবাহনে একাকার পুরো ঢাকা শহর। ফুটপাথ তো বটেই, ফুটওভার ব্রিজেও ভিড় জমে যায়। ক্রেতাদের এমন উপচে পড়া উপস্থিতিতে অনেক খুশি বিক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, এখন যারা মার্কেটে আসছেন তাদের অধিকাংশই ভিড় এড়াতে আগাম কেনাকাটা করছেন। ক্রেতা টানতে নানা রকম আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করছেন ফুটপাথ থেকে। ছেলেরা বেশি কিনছেন শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট ও পাঞ্জাবি। আর তরুণী ও নারীরা কিনছেন শাড়ি, থ্রিপিস ও ফ্রক। এছাড়া জুতার দোকানেও বিক্রি বেড়েছে অনেক। যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই নগরীর মার্কেটগুলোতে। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলে মার্কেট, শপিংমল, ফ্যাশন হাউস ও বিপণিবিতালগুলোতে। এমনকি রাজধানীর ফুটপাথগুলোতেও বেচাবিক্রি জমে উঠেছে। দর্জিপাড়ায় দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। ঢাকার প্রায় ৭০-৮০ ভাগ দর্জির দোকান ঈদের বাড়তি কাজের চাপে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মার্কেট এলাকাগুলোতে কিছুটা জ্যামও তৈরি হয়। স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার পরিবেশ তৈরি করতে মার্কেট, শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া অনেক মার্কেট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ করে দিয়েছেন। মার্কেটে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং কিংবা নারীদের উত্ত্যক্ত প্রতিরোধে গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে নগরবাসী বেশ খোশমেজাজে আনন্দের সঙ্গে কেনাকাটা করতে পারছেন।

ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থেকে গাউছিয়া মার্কেটে ঈদ শপিং করতে এসেছেন বেসরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি জানান, আগেভাগে এসেও মার্কেটের ভিড় এড়ানো সম্ভব হয়নি। এরপরও দুবছর পর স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারার আনন্দ অন্যরকম এক অনুভূতি। তিনি বলেন, করোনার কারণে দুটো ঈদ মাটি হয়ে গেছে। এ কারণে এবার পরিবারের সবার জন্য মার্কেটিং করা হবে। নিকটাত্মীয়দের পোশাক-আশাক উপহার দেয়া হবে। সবমিলিয়ে ঈদ উদ্যাপনের পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ কারণে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করা হচ্ছে। পোশাক-আশাকের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাম মনে হয় ঠিক আছে। এবার এখনো দাম বাড়ানো হয়নি। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, করোনার কারণে দু’বছর ব্যবসা প্রায় বন্ধ থাকায় এবার বিক্রি বাড়াতে কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- পোশাকের দাম নতুন করে আর না বাড়িয়ে এবং ছাড় দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করা। এতে করে বিক্রি বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পোশাক পরিচ্ছদের বিক্রেতা, ইলেক্ট্রনিকস ও আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী, পর্যটন ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সব খাতেই কেনাকাটা বেড়েছে।

পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারাবছরের বিক্রির অর্ধেকই হয় ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা বেড়েছে। বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন। নগদ টাকার পাশাপাশি ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটাও বেড়েছে। ঈদে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতিশীলতা আসে। ব্যাংকিং খাতে লেনদেন বাড়ে ব্যাপক হারে। ঈদের সময়ে টেলিভিশনসহ ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর চাহিদা বাড়ে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিরর পক্ষ থেকে এবার ঈদে বাণিজ্য গড়ে ২০-২৫ শতাংশ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। করোনার কারণে গত দুবছর ঈদ কেনাকাটায় শামিল হতে পারেনি দেশবাসী। কিন্তু এবার মহামারী সঙ্কট ও ভীতি দূর হয়ে গেছে। এ কারণে মানুষ কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন। কিনে আনছেন পছন্দের পোশাক সামগ্রী। আশা করা হচ্ছে, এবারের ঈদে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোশাকের বেচাবেক্রি হবে। এছাড়া পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্য, টেলিভিশন, প্রসাধনী, গহনা, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন গৃহসামগ্রীর কেনাকাটা বেশ জমজমাট। সব মিলিয়ে এসব পণ্যের লেনদেন হবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এই ঈদের আগে রমজান ও পরে আপ্যায়ন মিলিয়ে প্রায় দেড় মাস বাড়তি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। এই উৎসব ঘিরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করবেন ভোগপণ্যের ব্যবসায়ীরা। ঈদ-উল ফিতরে দেশে আনুমানিক কমবেশি ৮০ লাখ কেজি নানা ধরনের সেমাইয়ের চাহিদা থাকে, যার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ঈদের সেমাই তৈরি করে তা বাজারজাতকরণ শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে গত দু’বছর দেশে ঈদ বাণিজ্য হয়নি। তবে সেই সঙ্কট কেটে যাওয়ায় এবার ঈদ সামনে রেখে বেচাকেনা ভালভাবেই শুরু হয়ে গেছে। দু’বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে পণ্যের দাম না বাড়িয়ে বরং বেশি বিক্রির কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কারণে কেনাবেচাও ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। ঈদের কেনাকাটা ছাড়াও বড় অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে ফিতরা ও জাকাতে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া রমজান ও ঈদ উপলক্ষে মানুষের বাড়তি খরচের মনোভাব থাকে। এ সময় চাকরিজীবীদের বোনাসের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ধনী মানুষের দেয়া জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে দরিদ্রদের হাতেও এ সময় বাড়তি অর্থ যায়। রমজান মাসে দান-খয়রাতও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ফলে সব পর্যায়ের মানুষই অতিরিক্ত খরচ করার সুযোগ পান। ঈদের সময়ে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। চাঙ্গা হয় পরিবহন খাত। ঈদ কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যাপক ব্যয় হচ্ছে। এসব ব্যয় নিয়মিত অর্থ প্রবাহের বাইরে অতিরিক্ত হওয়ায় অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য বেড়ে যায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় শত কোটি টাকা লেনদেন হবে স্বর্ণের বাজারে।

ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট বেচাবিক্রি ॥ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট ঈদ মার্কেট। পহেলা বৈশাখের পর এবার ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিজেদের কেনাকাটার পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনের জন্যও কেনাকাটা করা হচ্ছে। এ কারণে ঈদের ১৭ দিন বাকি থাকতেই সবাই ছুটছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। ফলে ঢাকার মার্কেটগুলোতে বেচাবিক্রি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। পোশাকসামগ্রীর পাইকারি দোকানগুলোয় চলছে বেচাকেনার ধুম। খুচরা বাজার ও দর্জিপাড়াগুলোয়ও ব্যস্ততা বেড়েছে। দম ফেলার সময় নেই দর্জি কারিগরদের। ক্রেতা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে ব্যবসায় ভাল সময় পার করায় দীর্ঘ সময় বাদে মুখে হাসি ফুটেছে তাদের। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পালিত হবে ঈদ-উল-ফিতর। এই সামনে রেখে ঘিরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সুবাতাস বইছে। রোজার প্রথম দিন থেকেই ঢাকাসহ দেশের মার্কেট, শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। পোশাকের পাশাপাশি দেশি শিল্প ও অন্যান্য বাণিজ্যের প্রতিটি খাতে বেচাকেনা কয়েক গুণ বেড়েছে। করোনার কারণে উৎসবকেন্দ্রিক বেচাবিক্রিতে ধস নেমেছিল। তবে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উৎসবের অর্থনীতি। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি, হোসাপ টাওয়ার, টুইন টাওয়ার, ফরচুন শপিংমল, বেইলি রোড, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, জোনাকি সুপার মার্কেট, পলওয়েল সুপার মার্কেট, চায়না মার্কেট, গুলিস্তান এলাকার মার্কেট, র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিট, খিলগাঁও তালতলা সিটি কর্পোরেশন মার্কেটসহ ঢাকার সব মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

মার্কেট থেকে সাধ্যমতো কেনাকাটাও করছেন ক্রেতারা। এ প্রসঙ্গে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের ক্রে-ক্রাফটের বিক্রয়কর্মী হাসান বলেন, ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। বিক্রি বাড়ানো এবং ক্রেতাদের দিক বিবেচনায় নিয়ে এবার পোশাকের দাম বাড়ানো হয়নি। দু’বছর পর ঈদ মার্কেটে ক্রেতারা আসছেন। কেনাকাটা করছেন। বেচাবিক্রি অব্যাহত থাকলে আপনা-আপনি ব্যবসা চাঙ্গা হবে। ঢাকার বেইলি রোডের শাড়ি হাউস থেকে শাড়ি কিনছিলেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ফারহানা ইসলাম। তিনি জানান, দাম মোটামুটি ভালই আছে। ঈদ সামনে রেখে ইতোপূর্বে দামে যে রকম একটা গরম ভাবটা থাকত সেটি এবার দেখা যাচ্ছে না। বরং বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশি। এ কারণে কিছুটা ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মার্কেট, বিপণি বিতান শপিংমলের পাশাপাশি ভাসাবী, জারা, আলমাস সুপার শপের মতো অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতেও বেচাবিক্রি জমে উঠতে শুরু করেছেন। ধনাঢ্য পরিবারের ক্রেতারা এসব ফ্যাশন হাউসে ছুটে আসছেন। আমদানিকৃত এসব পোশাকের দাম আবার বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, বেশি দামি পোশাকগুলো বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এ কারণে এসব পোশাক বিশেষ করে শাড়ি ও পাঞ্জাবির দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হয়ে থাকে।

এদিকে পোশাকের পাশাপাশি বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে- ফার্নিচার সামগ্রী, ইলেক্ট্রনিকস পণ্যসামগ্রী যেমন টিভি ও ফ্রিজ, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, স্বর্ণ ও ইমিটেশন জুয়েলারির গহনা, ডায়মন্ডের রিং ও নাকফুল, জুতা-স্যান্ডেল, টুপি তসবিহসহ নানা পণ্যসামগ্রীর। এ কারণে ঈদবাণিজ্য জমে উঠেছে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, রমনা এলাকার দর্জি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ৭০-৮০ ভাগ টেইলার্সে নতুন করে আর পোশাকের অর্ডার নেয়া হচ্ছে না। ঈদের চাপ সামলাতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পাড়া মহল্লার টেইলারিং কারখানায় এখনও অর্ডার নেয়া হচ্ছে। খিলগাঁও তিলপাপাড়ার মা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ খালেক হাওলাদার বলেন, ২০ রোজার পর আর কোন অর্ডার নেয়া হবে না। ইতোমধ্যে ঈদ সামনে রেখে তারা বিপুল সংখ্যক পোশাক বানানোর অর্ডার পেয়েছেন। ঈদের আগে এসব পোশাক সরবরাহ করতে কারিগরদের দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনও বলেন, করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে এখানকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় রোজার শুরু থেকেই মানুষের উপস্থিতি বেশ ভাল। ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে সবখাতের ব্যবসায়ীরা বেশ আশাবাদী। করোনায় একাধিকবার বিধিনিষেধের ফলে নিয়মিত মার্কেট খোলা রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে এবা জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা