বুধবার   ১৭ জুলাই ২০২৪ || ১ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রকাশিত : ০৮:৫৪, ১৮ আগস্ট ২০২৩

রংপুরে নির্মিত হচ্ছে ক্যান্সার কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট

রংপুরে নির্মিত হচ্ছে ক্যান্সার কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট

বিশ্বে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগে যে ধরনের চিকিৎসা হয়- তা আগামীতে রংপুর থেকেও হবে। এজন্য রংপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশ্বমানের ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট। রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের জন্য এটি হবে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। রংপুর বিভাগের মধ্যে এটি হবে বিশ্বমানের প্রথম ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট।

এতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুবিধাপ্রাপ্তিতে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে উত্তর জনপদের মানুষ। জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নগরীর ধাপ এলাকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ১ একর ৩৭ শতক জমির উপর অত্যাধুনিক এই ইউনিটের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করছে। দুটি বুনিয়াদি ভিত্তি (ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশ) এবং ১৫ তলা ভবন বিশিষ্ট এই ইউনিটে ক্যান্সারের জন্য ১৮০টি, কিডনির জন্য ১৬৫ এবং হৃদরোগের জন্য ১১৫টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৮২ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ চলছে। এই প্রকল্পটি ২৪ মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০২১ সালের ৩০ মে।

জানা যায়, নির্মাণাধীন জমিতে পানির স্তর উচ্চ হওয়ায় ৪০ ফুট মাটি কেটে কাজটি করাসহ মাঝে বৈশ্বিক করোনা অতিমারির কারণে প্রকল্পের কাজ অনেকটা বিলম্বিত হয়। প্রায় ২ বছর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফের নির্মাণযজ্ঞ শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালে ৯ জানুয়ারি এই সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটির ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে এটি ১০০ শয্যার অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে ৪৬০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।

এদিকে রংপুর বিভাগের সব মানুষের একমাত্র উন্নত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অথচ সেখানে প্রায়ই নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসে যন্ত্রত্রæটির কারণে ভুগতে হয় রোগীদের। সরকারি হাসপাতাল হলেও বেশির ভাগ রোগী সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালটির হৃদরোগ বিভাগেও রয়েছে চিকিৎসক সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা। রোগীর সঙ্গে একের অধিক স্বজনের দেখা মেলে বিভাগটিতে। একাধিক দর্শনার্থীর প্রবেশ ও অবস্থান করা নিষেধ থাকলেও রোগীর স্বজনরা এই নিয়ম না মানায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের। অথচ অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় এ বিভাগের প্রতিটি রোগীকে ভর্তি করানো হয়। একদিকে নির্ধারিত বেডের চাইতে রোগীর সংখ্যা বেশি, অপরদিকে চিকিৎসক সংকটের জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সেবিকারাও সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয়

চিকিৎসাসেবা। দরিদ্র আর নিম্নবিত্ত রোগীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণাধীন ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটি ঘিরে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের বিভিন্ন সফল উদ্যোগের মধ্যে এটি রংপুর বিভাগের জন্য অনেক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনার সংক্রমণে সবকিছু যখন স্থবির ছিল, তখন কিছুই করতে পারিনি। সবমিলিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করতে লম্বা সময় বিলম্ব হয়। তবে এখন কাজ পুরোদমে চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তর করার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট প্রকল্পের কাজটি গণপূর্ত বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ, মহামারি বা সংকট দেখা না দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল চন্দ্র রায় জানান, নির্মাণাধীন ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটি হবে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এখানকার যন্ত্রপাতিসহ সব ব্যবস্থাপনা থাকবে অত্যাধুনিক। বিশ্বে যেভাবে চিকিৎসা হয় এখানেও সেভাবে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ