বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০২৪ || ২ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রকাশিত : ১০:৪৫, ২৭ মে ২০২৩

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ-চীন

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ-চীন

ঢাকা-বেজিংয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও  দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দু’দেশের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়াও প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এ বাংলাদেশকে পাশে পেতে তাগিদ দিতে পারে চীন।

পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নির্বাচন ও পারষ্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিববারে বৈঠকে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের জন্য আমন্ত্রণপত্র দিতে পারে বেজিং।

চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্দেশ্যে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমানের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সেই আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশ। শনিবারের ‘ফরেন অফিস কনসালটেশনে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইসু্যু। আলোচনার টেবিলে আরও উঠছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়। 
বৈঠকে যোগ দিতে ইতোমধ্যে শুক্রবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সান ওয়েইডেং। সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এ ছাড়া শনিবার বিকেলে সান ওয়েইডেং পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যাবেন। এদিকে চীনের ভাইস মিনিস্টারের বাংলাদেশ সফরের দুইদিন আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। এর আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল গত মাসে রাখাইন সফর করেছেন। তবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গারা রাখাইনে নিজ ভিটায় ফেরা ও নাগরিকত্ব না দিলে মিয়ানমারে যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনার মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে। কুনমিংয়ে তিনপক্ষের মধ্যে আলোচনাটি এগিয়ে নেওয়া শনিবারের বৈঠকের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশও চীনের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে এই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের বিষয়ে আগ্রহী চীন। এবারে হয়ত সেটির একটি আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ চীন সফর করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের সচিব পর্যায়ের এই শীর্ষ বৈঠকে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এ বাংলাদেশকে পাশে চাওয়ার বিষয়টি পুনরায় তুলতে পারে চীন। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরেই চীনের প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগে যুক্ত হতে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে চাপও রয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবারের বৈঠকে দুই দেশের নানা আলোচনার মধ্যে গুরুত্ব পেতে পারে জিডিআই-এ ঢাকার যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ। এক্ষেত্রে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বিস্তর আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে (আইপিএস) নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে বেজিং। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কথা উঠেছে। তবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এই ভিসানীতিকে স্বাগত জানালে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কিছুটা চাপে রয়েছে। যদিও সরকার বলছে, নতুন ভিসানীতি বাংলাদেশের অবাধ নির্বাচনের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু হঠাৎ করেই বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন নীতি ঘোষণায় কিছুটা হলেও আস্থায় আঘাত হেনেছে। চীনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতভেদ থাকার কারণে এজেন্ডাতে না থাকলেও সমসাময়িক নানা ইস্যু উঠতে পারে।  বর্তমান পরিস্থিতিতে সুযোগ নিতে পারে চীন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা দেওয়া মানে এই নয় যে আমরা যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানের সঙ্গে চলে গেলাম। আমরা তো চায়নার এক নীতিকে প্রকাশ্যে খুব জোরালোভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। আমরা তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ আছি। জিডিআই নিয়ে তাদের একটা আগ্রহ আছে। এটা নিয়ে আমরা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আমাদের মিশনগুলোর (বেজিং ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন) মতামত চেয়েছি। কারণ, এটাতে জাতিসংঘ রিলেটেড একটা ব্যাপার আছে। আমাদের সংশ্লিষ্ট মিশনগুলো থেকে ইনপুট চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ঢাকা সফর করেছিলেন চীনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সেই সফরে চীনের প্রেসিডেন্টের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) ও গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই)-এর মতো উদ্যোগে বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বলেছিলেন, জিডিআই-এ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক। লি’র উত্তরসূরি চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত মার্চের মাঝামাঝিতে এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, জিডিআই-এর বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

এফওসিতে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অনেক কিছু আসতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু থাকবে। আঞ্চলিক ইস্যু আসবে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো কোন অবস্থায় আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। চলমান অন্যান্য ইস্যু উঠে আসতে পারে আলোচনার  টেবিলে। আলোচনায় রোহিঙ্গাদের পাইলট প্রত্যাবাসনে বিশেষ গুরুত্বের কথা জানান মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে মিয়ানমার ইস্যুতে আলোচনা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে মূল আলোচনা হবে। নির্বাচনের আগেই মিয়ানমারে কিছু রোহিঙ্গা পাঠানো দরকার।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ