• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২২  

প্রতি বছরের মতো এবারও ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান (৭ থেকে ২৮ অক্টোবর), জাটকা ও প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন, সমুদ্রে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইলিশের উৎপাদনে একসময় খারাপ অবস্থা হয়েছিল। ইলিশের সমৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও বর্তমান সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাপনায় ইলিশের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত ১২ বছরে ইলিশ আহরণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ ছিল ২ দশমিক ৯৮ লাখ মেট্রিক টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। দেশে চলতি অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা  নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছে তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুল হক বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় (৭ থেকে ২৮ অক্টোবর) ২২দিন মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া ইলিশের ৬টি অভয়াশ্রম আছে। সেগুলো ম্যানেজমেন্ট করা হয়। ১০ ইঞ্চির নিচে ইলিশ (জাটকা) ধরলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

তিনি বলেন, জাটকা আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে প্রতি বছর উন্নয়ন বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ করা হয়। রিকশা/ভ্যান, ছাগল (২টি), সেলাই মেশিন, গরু মোটাতাজাকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, জাল সরবরাহ, হাঁস-মুরগি পালন, গাছের চারা তৈরি, সবজি বাগান এবং খাঁচায় মাছ চাষ উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা মৎস্যজীবীদের অতীতে পরিবার প্রতি ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এ বছর এটি ২৫ কেজি করা হয়েছে। এবার দেশের ৩৭ জেলার ১৫৫টি উপজেলায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৭টি জেলে পরিবারকে ১৩ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সহায়তা আরও বাড়বে। 

জাটকা ধরা বন্ধ ৮ মাস:
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে জাটকা ধরলে ও বেচাকেনা করলে শাস্তির মুখে পড়তে হয়।

২২ দিন ইলিশ ধরা-বিক্রি নিষিদ্ধ:
প্রজনন মৌসুম ধরে প্রতি বছর আশ্বিন মাসে প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার চার দিন আগে থেকে পূর্ণিমার দিনসহ পরের ১৭ দিন মিলিয়ে মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা, মজুত, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় (৭ থেকে ২৮ অক্টোবর) ২২ দিন মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ১৯৮৫ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধি (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস, ১৯৮৫) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড পেতে হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

বিশেষ কম্বিং অপারেশন:
প্রতি বছর ইলিশ রক্ষা অভিযানে দেশের ৩৮ জেলায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালিত হয়। মা ইলিশ রক্ষায় গত ৫ বছরে ৭৫ হাজার ১৮৩টি অভিযান চালিয়ে ৬৩৩ টন ইলিশ জব্দসহ ২৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার মিটার জাল এবং ৪ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সমুদ্রে বছরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ:
সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বাণিজ্যিক ট্রলার দিয়ে সব ধরনের মাছ ও চিংড়ি আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। ২০১৫ সাল থেকে এ উদ্যোগ।  আহরণ নিষিদ্ধ সময়ের জন্য উপকূলীয় সব জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি বছর ২ লাখ  জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে চাল দেওয়া হয়েছে। 

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ;
ইলিশ রক্ষায় প্রতি বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করা হয়। গত বছর ৪ থেকে ১০ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। এ সময় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছাড়াও হাটবাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশ আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। সরকারের কঠোর ব্যবস্থাপনা, ইলিশের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি, মা ইলিশ ধরতে না দেওয়া, জাটকা আহরণ বন্ধ রাখা এবং ইলিশ যেখানে ডিম দেয় সে জায়গায় উপযোগী পরিবেশ রক্ষার ফলে ইলিশের উৎপাদন এভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখাকালে ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত মৎস্যজীবীদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সেজন্য তাদের সরকার চাল দেয়, বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সহযোগিতা দেয়। মা ইলিশ অথবা ছোট ছোট ইলিশ ধরলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে না। সেক্ষেত্রে ইলিশ আহরণকারী জেলেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ ইলিশ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে, রপ্তানি পণ্যের ক্ষতি হবে এবং নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরতে যাওয়া অসাধু ব্যক্তিরা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য স্থানীয়ভাবে সচেতন করা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াসহ নানাভাবে সরকার জেলেদের মা ইলিশ ও জাটকা আহরণ থেকে বিরত রাখে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা