• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সোমবার দেশের প্রথম ৬ লেনের সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২২  

সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এই সেতু বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমাবে ১৩০ কিলোমিটার। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল সীমান্তের কালনা পয়েন্টে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন “মধুমতী সেতু” আগামী ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন থেকেই সেতুতে গাড়ি চলবে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১০ অক্টোবর একসঙ্গে দুটি সেতুর উদ্বোধন করবেন। সেগুলো হচ্ছে মধুমতী সেতু এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা সেতু। তবে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হলেও সময় এখনও ঠিক হয়নি।”

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর মধুমতী সেতু পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করবেন, তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।”

২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যশোর ও নড়াইলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে কালনা সেতু নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার হবে কালনাঘাটের এই মধুমতী সেতু। এই অঞ্চলের মানুষ সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রহর গুনছেন।

দৃষ্টিনন্দন মধুমতী সেতু দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। মধুমতী নদীর কালনা পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। সেতুর পূর্ব পারে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শংকরপাশা গ্রাম ও পশ্চিম পারে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা কলনা গ্রাম। দুই জেলার সীমান্তে নির্মিত সেতু ঢাকার সঙ্গে অন্তত ১০ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মূল সেতু ও সংযোগ সড়কের প্রায় সব কাজ শেষ। সেতুর অর্ধেক অংশে ল্যাম্পপোস্ট বসানো শেষ হয়েছে। টোল প্লাজার বুথ করা হয়েছে আটটি, সেখানে যন্ত্রপাতি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। সেতু এলাকায় চলছে নদী শাসনের কাজ।

কালনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট দুই-তিনদিনের মধ্যেই বসানো শেষ হবে। টোল প্লাজার সব কাজ উদ্বোধনের আগেই শেষ হবে। গাড়ি চলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সেতুটি। নদী শাসনের কাজ পর্যায়ক্রমে করা হবে।”

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

জাপানের টেককেন কর্পোরেশন, ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এ সেতুর ঠিকাদার।

সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এই সেতু বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমাবে ১৩০ কিলোমিটার।

২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নড়াইলের নির্বাচনী জনসভায় এ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

মধুমতী সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান। নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) এ স্প্যানটি তৈরি হয়েছে ভিয়েতনামে। ওই স্প্যানের উভয় পাশের অন্য স্প্যানগুলো পিসি গার্ডারের (কংক্রিট)। ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে।

সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭.১০ মিটার। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৪.২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০.৫০ মিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৯৫৯.৮৫ কোটি টাকা। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা