• সোমবার   ২৩ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

ই-কমার্সের ৬ হাজার গ্রাহককে অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২২  

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ডটকমের গ্রাহকদের আটকে থাকা টাকা ফেরত দেয়া শুরু হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি থেকেই তাদের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে ছয় হাজার গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন। এ জন্য ৫৯ কোটি টাকা ছাড় করতে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৫৯ কোটি টাকা ছাড় করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এতে ছয় হাজারের মতো গ্রাহক তাদের অর্থ ফেরত পাবেন।’

জানা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ডটকমের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের আদেশ দিয়েছিলেন গ্রাহকরা। এ জন্য পণ্যের দামের বিপরীতে কিছু অর্থও পরিশোধ করেছেন তারা। কিন্তু আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় কিউকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে আটকে যায় পরিশোধ করা অর্থ।

জানা গেছে, পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ফস্টারের মাধ্যমে এসব অর্থ ফেরত দেয়া হবে। এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিউকমে টাকা ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও। এ জন্য ২৪ জানুয়ারি তারা একটি সভাও ডেকেছে মন্ত্রণালয়ে। এ সময় ডিজিটাল কমার্সসংক্রান্ত কার্যক্রম ও ভোক্তা-বিক্রেতা অসন্তোষ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে টাকা হস্তান্তর করা হবে।

জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ছাড়পত্র নেয়া হয়। সে অনুযায়ী কিউকমের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি ৭২১ গ্রাহকের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫৯ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়ে একমত হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয় কিউকম ও তাদের পেমেন্ট গেটওয়ে ফস্টার। এই পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে কিউকম ডটকমের আটকে থাকা টাকার পরিমাণ ৩৯৭ কোটি টাকা।

অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা করতে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম। বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে পণ্য দেয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও পণ্য না দেয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এরপরই অর্থ পাচারের বিষয়টিও বেরিয়ে আসে।

গ্রাহক অভিযোগের পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ দিকে কিউকমের পণ্য সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে ছিল পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার। তখন কিউকমের পাশাপাশি ফস্টারের সব ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়। এতে পেমেন্ট গেটওয়ে ফস্টারের কাছে কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা আটকে আছে। এ টাকার মধ্যে ক্রেতাদের অন্তত ১৬৬ কোটি টাকা রয়েছে, যার বিপরীতে পণ্য ডেলিভারি করেনি ই-কমার্স কোম্পানিটি। ফস্টারের জব্দ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসব টাকা আটকে রয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, কিউকমের ছয়টি অ্যাকাউন্টে গ্রাহকরা জমা করেছেন ৭৯০ কোটি টাকা। লেনদেন স্থগিত থাকা এসব অ্যাকাউন্টে স্থিতির পরিমাণ দুই কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাকি টাকা তুলে নিয়েছে কোম্পানিটি।

দীর্ঘ দিন ধরে পণ্য ক্রয়ের জন্য দেয়া অর্থ আটকে রয়েছে কিউকমের কাছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন গ্রাহকরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য ফস্টার নামক প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। গত ১০ জানুয়ারির মধ্যে তালিকা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী গ্রাহক তালিকা জমা দেয় ফস্টার।

এখন তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত দেবে প্রতিষ্ঠানটি। পুরো বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০টির বেশি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে উদীয়মান খাতটি শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইন এ খাতটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা