• শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯

  • || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হবে: আইনমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২২  

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে দু'বার আলোচনা করেছি। সেই অফিসকে অবহিত করা হয়েছে, আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন বাস্তবায়ন করা হয় সেখানে কিছু মিসইউজ ও কিছু অ্যাবিউস হয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো নির্ণয় করে আমাদের দেশের জন্য কতটুকু প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনে আইন কিছুটা সংশোধনও করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের ষষ্ঠ অধিবেশন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনের খসড়া সংসদের চলতি অধিবেশনে পাস করার প্রচেষ্টা থাকবে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২'-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। খসড়া অনুযায়ী, সিইসি ও কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করা হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য করা হয়নি। সেটা যদি করা হতো এটা আইন হিসেবেই গণ্য হতো না। কারণ সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে তা যেন মামলা হিসেবে গ্রহণ করা না হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বলে দিয়েছি, আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেন সেলে পাঠানো হয়। গণমাধ্যমের কর্মী যারা, তাদের যেন ইমিডিয়েটলি অ্যারেস্ট না করা হয়, সেটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা দেওয়ার পর কিন্তু এই আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করাটা অনেকাংশে কমে গেছে।

সম্মেলনে দণ্ডবিধির ২২৮ ধারাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তপশিলে যুক্তের দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

ভূমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছেন। এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে অনুশাসন দিয়েছেন, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা