• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্বপ্ন জোড়া দিচ্ছে পায়রা সেতু: নতুন যুগের সূচনায় দক্ষিণ জনপদ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২১  

দেরিতে হলেও নদীবেষ্টিত বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালী, বরগুনা আর কুয়াকাটার সড়ক যোগাযোগে নতুন আরেক যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে এ সেতু। সমুদ্র শহর কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগের আরেক দ্বার খুলবে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ করা চারলেনের সেতুটি খুলে দেওয়া হলে। ফেরি পারাপারের ভোগান্তি যেমন কাটবে, বাঁচবে সময় ও অর্থ।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে কাজ শুরুর দীর্ঘ নয় বছর পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

অবসান ঘটবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। সময়ে সময়ে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হলে যা রূপ নেয় প্রতীক্ষায়।

অবশেষে দক্ষিণাঞ্চলের ওই এলাকার মানুষের এ আকাঙ্খা বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলা প্রায় দেড় কিলোমিটারের পায়রা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে।

সেতুটি চালু হলে বরিশাল শহরসহ ওই অঞ্চলের যানবাহন ফেরি পারাপার ছাড়াই পটুয়াখালী, কুয়াকাটা ও বরগুনায় যেতে পারবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে সেতু এলাকায় সাজ সাজ রব পড়েছে বলে জানিয়েছেন পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবাই আগামী রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের দিকে তাকিয়ে আছেন। উদ্বোধনের পর গাড়ি চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। “

তবে পায়রা সেতু চালুর পরও ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে কুয়াকাটা যেতে কিংবা পটুয়াখালী ও বরগুনার মানুষকে রাজধানী আসতে আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। তারা এখন তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা সেতুর দিকে।

কেননা নিমার্ণাধীন দেশের বৃহ্ত্তম এ সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পায়রা সেতুর মাধ্যমে এসব এলাকার সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

একসময় সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা যেতে ১০টি নদীতে ফেরি পার হতে হত। এখন শুধু পদ্মা ও পায়রা এ দুই নদীতে ফেরি পারাপার হতে হয়। নদী পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি ও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

পায়রা সেতু নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রকল্পটির আওতায় মূল সেতু ও সংযোগ সড়কসহ সব কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। এখন সেতু এলাকা সাজানো হচ্ছে। রঙ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের যৌথ অর্থায়নে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লংজিয়ান রোডস অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি’ সেতুটি নির্মাণ করেছে।

সর্বাধুনিক ‘এক্সট্রাডোজড কেবল স্টেইড’ প্রযুক্তিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও একইভাবে নির্মাণ করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক জানান, নদীর পানির প্রবাহের স্তর থেকে প্রায় ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে এ সেতু। এর উদ্দেশ্য যাতে নিচ দিয়ে জলযান চলাচলে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।

পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে পায়রা নদীর মাঝখানে মাত্র একটি বড় পিলার স্থাপন করে গড়ে তোলা হয়েছে এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি। পিলারটি ১৩০ মিটার গভীর পাইলিং করে বসানো হয়েছে। ওই পিলারের উভয় পাশে অন্য দুই পিলারের সঙ্গে বড় বড় তার দিয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সেতুকে নিরাপদ রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ব্রিজ হেলথ মনিটর’।

এ প্রযুক্তিতে সেতুর ক্ষতি হতে পারে এমন অতিরিক্ত ভারি যানবাহন সেতুতে উঠলে আপনা আপনি বেজে উঠবে বিপদ সংকেত।

শুক্রবার প্রকল্প এলাকা থেকে পরিচালক হালিম বলেন, “এখন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। তাই সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তারপরও আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

“উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রকল্প এলাকার অংশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন।“

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা