• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইকবাল কারও প্ররোচনায় মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২১  

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে যাওয়ার ঘটনায় ইকবাল হোসেন নামে যে ব্যক্তির নাম এসেছে, তিনি কারও প্ররোচনায় ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। 

তিনি বলেন, ‘তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি পলাতক। আমরা ধারণা করছি, তাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এখন পলাতক ইকবাল হোসেনকে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তাকে ধরতে পারলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।’ 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব‍্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা–সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইকবাল হোসেনকে শনাক্ত করার বিবরণ তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, ইকবাল হোসেনকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি মাজারের সঙ্গের মসজিদে দিবাগত রাত ৩টার দিকে একাধিকবার গিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা মাজারের সঙ্গে যে মসজিদ, সেটা প্রসিদ্ধ মসজিদ। লোকটি (যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে) রাত তিনটার দিকে কয়েকবার (সেখানে) গিয়েছেন। সেখানে তিনি মসজিদের খাদেমের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোরের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের যারা এ কাজে অভিজ্ঞ তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ব্যক্তিটি মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ এনে রেখেছেন, এটা তারই কর্ম। আমরা যতটুকু দেখেছি, লোকটি কোরআন এনে মূর্তির কোলে রেখে মূর্তির গদাটি কাঁধে করে নিয়ে আসছে। এই লোকটি কার প্ররোচনায়, কার নির্দেশে, কীভাবে এই কর্মটি করলেন? তিনি তো প্ল্যানমাফিক করেছেন। কাজেই নির্দেশিত হয়ে কিংবা কারো প্ররোচনা ছাড়া এ কাজটি করেছেন বলে আমরা এখনো মনে করি না। তাকে ধরতে পারলে আমরা বাকি তথ্য উদ্ধার করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর রাত দুইটা ১০ মিনিটে দারোগাবাড়ির মাজার থেকে থেকে কোরআন সাদৃশ্য গ্রন্থ হাতে নিয়ে পুকুরের পূর্ব পাড় দিয়ে বের হন এক ব্যক্তি। আরেক ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৩টা ১২ মিনিতে পূজামণ্ডপ থেকে আসতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার কাঁধে হনুমান মূর্তির গদাটি রাখা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পবিত্র কোরআন মূর্তির যে স্থানে রাখা হয়েছে, গদাটি না সরালে সেখানে রাখা তা যেত না।

এ সময় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুহিবুল্লাহকে যারা মার্ডার করেছে, প্রায় সবাইকেই আমরা ধরে ফেলেছি। জিজ্ঞাসাবাদের পরে বিস্তারিত জানাতে পারব। আমাদের সিকিউরিটির কোনো দুর্বলতা নেই। ’

গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় এলাকার একটি মণ্ডপে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে ভাংচুর চালায় একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর, চাঁদপুর, সিলেট, নোয়াখালীতে বিভিন্ন মন্দির, মণ্ডপে ভাংচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে একজনকে পিটিয়ে মারার অভিযোগও এনেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

কুমিল্লার ওই ঘটনায় ৮ মামলায় ৬৬১ আসামি করা হয়েছে। 

কুমিল্লার ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরায় শনাক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা