• বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৮

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

এমন শাস্তি হবে ভবিষ্যতে কেউ সাহস পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২১  

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলার মধ্যেই বুধবার সকালে কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারা তোপের মুখে পড়ে, বাঁধে সংঘর্ষ।

এর জের ধরে চাঁদপুরেও পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ হয়, সেখানে প্রাণহানিও ঘটে। মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা, কক্সবাজারের পেকুয়া, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে যারাই এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে সাথে সাথে তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে।

“আমরা অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতে আমরা করতে পারব এবং যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই।”

কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “খুব ব্যাপকভাবে তদন্ত হচ্ছে। অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবই। এটা আমরা করতে পারব।

“এখন প্রযুক্তির যুগ এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। আমরা তা করেছি এবং করব।”

কিছু মানুষের মধ্যে ‘দুষ্টু বুদ্ধির ব্যাপার আছে’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস খুব সুন্দরভাবে চলছে, সেটাকে নষ্ট করা; বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সে যাত্রাটাকে ব্যাহত করা এবং দেশের ভেতরে সমস্যার সৃষ্টি করা এ ধরনের লোক কাজ।

“যারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না, বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। রাজনীতি নেই, কোনো আদর্শ নেই, আসলে তারাই এই ধরনের কাজ করে। এটা অনেকটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সকলে সচেতন থাকে... অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা কখনোই নিজেদেরকে সংখ্যালঘু ভাববেন না। আমরা আপনাদেরকে সংখ্যালঘু না, আপনজন হিসেবে মানি। আমাদের এই দেশের নাগরিক হিসেবে মানি। সমঅধিকারে আপনারা বসবাস করবেন, আপনারা সমঅধিকার ভোগ করবেন, সমঅধিকার নিয়ে আপনাদের ধর্ম পালন করবেন, উৎসব করবেন- সেটাই আমরা চাই।

“আমি চাই যে আমাদের দেশের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে এবং সব ধর্মের মানুষই তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে- সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা