• বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

টিকার আওতায় আসছে ৩০ লাখ স্কুলশিক্ষার্থী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২১  

টিকার আওতায় আসছে স্কুলশিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ বিষয়ে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে স্কুল পড়–য়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের শিক্ষার্থীরাই এই টিকা পাবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩০ লাখ শিক্ষার্থীই পাবে করোনার এই টিকা। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি। তাই প্রস্তুতির বিষয়ে মাউশি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।


অন্য দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু হবে। প্রথম ধাপে দেশের ২১টি জেলায় একযোগে ১২-১৭ বছর বয়সীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তুতি থাকলেও এ বিষয় এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা পায়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার মাউশির পরিচালক (স্কুল) বেলাল হোসাইন জানান, শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আমাদের সাথে কোনো আলাপ হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি শুনেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো লিখিত কোনো কিছু জানায়নি। লিখিতভাবে জানালে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আশা করছি, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানাবে। আমরা সে হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করতে পারব।
এর আগে এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাখতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২৩-২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালানো হবে। তার সাথে ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ’ পালন করা হবে। গত রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, অল্প দিনের মধ্যেই সরকার ১২-১৭ বছর বয়সের শিশুদের করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু করবে। শুরুতে দেশের ৩০ লাখ ছেলেমেয়েকে এই টিকা দেয়া হবে। জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে শিশুরা এ টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারবে। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সময় থেকেই মূলত স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ইস্যুটি সামনে আসে। সেই সময় সরকার বলেছিল, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ১২-১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার বিষয়ে যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছি, তখন জানানো হয়েছে সংক্রমণ রোধে এবং কোমরবিডিটি রয়েছে এমন ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, তাদের (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক) সাথে কথা বলার পর আমি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভির সাথে কথা বলেছি। তারাও জানিয়েছেন, ফাইজার আর মডার্নার টিকা তারা আমাদের দিতে পারবে।
স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, সক্ষমতা অনুযায়ী সারা দেশের জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ২১টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্কুলশিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহে (বৃহস্পতিবারের মধ্যে) আমরা কাজ শুরু করতে পারব।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে অধিদফতর। মহাপরিচালকের আশা, এ ক্ষেত্রে আমরা একসাথে অনেক শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: খুরশীদ আলম আরো জানান, স্কুলশিক্ষার্থীদের তালিকা সরবরাহ করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মে তাদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেবো।
তিনি আরো জানান, আমরা যেকোনো টিকা দেয়ার আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাই। ৫০-১০০ জন নিয়ে যেটুকু পারি, তা দিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ হবে। তাদের দিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর বড় আকারে টিকা দেবো। এটা তো চাইলেই হবে না, জায়গা পেতে হবে। লোকবলের বিষয়ও আছে। তবে প্রথমে টেস্ট রান হিসেবে ৫০ থেকে ১০০ জনসহ যতটুকু পারি তাদের দিয়ে শুরু করব। তাদের আমরা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর বড় আকারে দেবো। শিশুদের টিকা কেন্দ্র আলাদা হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা