• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

টমেটোর বিভিন্ন রোগ দূর করার উপায়

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০২২  

টমেটো আমাদের দেশে সারাবছর পাওয়া গেলেও এটি মূলত শীতকালীন সবজি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। তবে টমেটো চাষিরা এর বেশ কয়েকটি রোগ নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েন। ফলে প্রত্যাশিত ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেন না। তাই টমেটো চাষ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু রোগ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

বিভিন্ন রোগের জন্য এর ফলন অনেকটাই ব্যাহত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা রোগ চিহ্নিত করলেও তা নির্মূল করার উপায় জানেন না। কোন রোগে কী সার, কোন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় সে সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা নেই অনেকেরই। যার ফলে দেখা যায় ফলন ভালো হলেও বেশির ভাগ টমেটোর গুণগত মান ভালো নয়। যার ফলে সঠিক দামও পাওয়া যায় না। কৃষি বিভাগ টমেটোর প্রধান প্রধান রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে চাষিদের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছেন উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে এসব রোগ অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হবে।

টমেটোর প্রধান রোগগুলো হলো, জলদিধসা বা নাবিধসা, ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া, ভাইরাস বা ফুটে রোগ, ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া, পেছনে কালো দাগ, চারা ধসা বা চারা ঢলা রোগ। টমেটোতে নাবিধসা রোগই বেশি দেখা যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টমেটো ঢলে পড়ে যায়। এর থেকে সবজি বাঁচাতে সুসংহত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এর জন্য শস্য পর্যায় অনুসরণ করা, জৈবসার প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৮০ কেজি নিমখোল ব্যবহার করা দরকার। এছাড়া যে জমিতে এ ধরনের রোগ দেখা যায় সেখানে ধঞ্চে জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে।

টমেটোর অন্যতম রোগ ভাইরাস বা ফুটে রোগ। এ রোগ সাধারণত সাদা মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান প্রতিকার হলো বাহক এ মাছিগুলো দমন করা। এছাড়া কীটনাশক মেসনইমিডা কোপ্রিড ১৭.৮ শতাংশ এক মিলিমিটার নিয়ে সাড়ে সাত লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে। বীজতলা থেকে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

কম পটাশযুক্ত বালুমাটিতে টমেটো চাষ করলে ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ দেখা যায়। এজন্য জমিতে বেশি পরিমাণে পটাশ ও জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডারমা ভিরিডি জৈব সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

প্রায়ই দেখা যায় উন্নত জাত হওয়া সত্ত্বেও টমেটোর পেছন দিকে কালো কালো দাগ। নোনা মাটি, বেশি ভেজা বা বেশি শুকনো মাটি ও ক্যালসিয়ামের অভাবযুক্ত মাটিতে এ শারীরবৃত্তীয় অনিয়মজনিত রোগটি হয়। এর জন্য নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিত পানি সেচ দেয়া দরকার।

এছাড়া চাপানো সার হিসেবে ক্যান সার ব্যবহার করলে এবং দুই গ্রাম চুন প্রতি লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। জৈব সারের সাথে ট্রাইকোডারমা ভিরিডি নামক উপকারী ছত্রাক বীজতলায় বা মূল জমিতে ব্যবহার করলে চারা ধসা ও চারা ঢলে পড়া রোগ নির্মূল করা যায়। এছাড়া বীজ শোধন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা