• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

বিদেশি ফল মালবেরি চাষে সোহেলের চমক!

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২২  

নওগাঁর সাপাহারে বিদেশি ফল মালবেরি চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। মেধা, বুদ্ধিমত্তা আর শ্রম দিয়ে তিনি‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন। সোহেলের কৃষি ফার্মে রয়েছে প্রায় শতাধিক ধরনের দেশি-বিদেশি ফলের গাছ। তার সফলতা দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভীড় করেন।

জানা যায়, তার সমন্বিত বাগানে মালবেরি নতুন যোগ হয়েছে। বর্তমানে সোহেলের ফার্মে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, লাল এবং কালো লম্বাটে মালবেরি ফল। এই ফল গাছের পাতা ডিম্বাকার, খাঁজযুক্ত এবং অগ্রভাগ সূচাল। আকারে আঙুর ফলের চেয়ে কিছুটা বড়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে গাছে ফুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিলেই ফল পাকে। এই ফল দেখতে খুবই সুন্দর, আকর্ষনীয় তেমনি রসালো এবং টক-মিষ্টি। প্রতিটি গাছ থেকে ৮-১০ কেজি ফল সংগ্রহ করা যায়। এই গাছের চারা সহজেই তৈরি করা যায়। বাসা বাড়ির ছাদেও এই ফল চাষ করা সম্ভব বলে জানায় সোহেল। বর্তমানে সোহেলের ফার্মে উৎপাদিত ফল দেশের গন্ডি পেড়িয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

উদ্যোক্তা সোহেল বলেন, মালবেরি চাষ করতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়না। জৈব সার ব্যবহার করেই সারা বছর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল চাষ করা সম্ভব। ফলের উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মালবেরি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমার ফার্মে ১০টি মালবেরি গাছ রয়েছে। ৮ জাতের মালবেরি গাছ পরীক্ষামূলকভাবে লাগিয়েছি। এরই মধ্যে চারটি জাত পছন্দ করেছি। চারা তৈরি করে ১ বিঘা জমিতে মালবেরি চাষ করবো। গ্রামাঞ্চলে এ ফলের পরিচিতি ও কদর না থাকলেও শহরাঞ্চলে এই মালবেরি ফলের বেশ চাহিদা রয়েছে। বড় শহরের শপিংমলগুলোতে মালবেরি ফল ১-২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। আমার উৎপাদিত বিদেশি এই ফল দেখে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ দেখতে ও পরামর্শ গ্রহণ করতে আসছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, সোহেল রানা একজন সফল বাগানি। দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন ফল, ফুল, আমসহ নানা ধরনের বাগান করে সফলতা পেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ৮ জাতের মালবেরি গাছ পরীক্ষামূলকভাবে লাগিয়েছেন। বর্তমানে গাছ থেকে ফল তোলার উপযোগী হয়েছে। প্রতিটি গাছে থেকে প্রায় ৮-১০ কেজির মতো ফল পাওয়া যাবে। এলাকার মাটিও মালবেরি চাষের উপযোগী। নওগাঁতে মালবেরি চাষ প্রসারে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা