• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আগাম শিমে লাভবান কৃষক

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

নওগাঁয় আগাম জাতের শিমের ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাইকারিতে ১৫০-১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে শিমগাছে পোকা ও পচানি রোগ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১৭১ হেক্টর, রানীনগরে ১০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১৫ হেক্টর, বদলগাছীতে ১০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩ হেক্টর, ধামইরহাটে ৮ হেক্টর, সাপাহারে ৮ হেক্টর, মান্দায় ৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ২০ হেক্টর। এছাড়া শীতকালিন ৮৫০ হেক্টর জমিতে শিম রোপণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিমের মাচার ওপরে সবুজ পাতার ফাকে লকলকে ডগায় রঙিন ফুলে ছেয়ে আছে। কোথাও ফুল থেকে কুঁড়ি হয়েছে আবার কুঁড়ি থেকে শিম। এমন দৃশ্য নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে। গত ১৫ দিন থেকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের শিম। স্থানীয় এ আগাম জাতের শিমের ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। চার মাসের এ আবাদে বিঘাতে খরচ পড়ে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। আর মৌসুমজুড়ে বিক্রি হয় প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা।

চাষিরা বলছেন- মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় শিম চাষে বাগড়া দেয়ায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। গেল কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাটিতে রস পেয়ে এবং হালকা শীতের আমেজ ও কুয়াচ্ছন্ন হওয়ায় শিমের আবাদ ভালো হয়েছে। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে গাছে পোকা ও পচানি রোগ হওয়ায় দুশ্চিনায় পড়েছেন চাষিরা। সপ্তাহে দুইবার কীটশানক স্প্রে করতে হচ্ছে। এতে লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশক ব্যয়ে। শুরুতে বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৫ কেজি শিম উঠলেও কয়েকদিন পর থেকে কয়েক মণ ওঠা শুরু হবে। শিমের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে দামও চড়া। পাইকারিতে ১৫০-১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নে কসবা গ্রামের শিম চাষি খলিলুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেছি। গত ১০ দিন ৪ কেজি শিম তুলে বাজারে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এখন শিমের উৎপাদন কম হওয়ায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। গাছে পচানি রোগে কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। সপ্তাহে ১ হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে। তবে যখন শিম বেশি উৎপাদন হবে তখন ২০০-৩০০ টাকার কীটনাশক স্প্রে করলেই হবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, আগাম সবজি চাষে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তবে পোকামাড়ক ও রোগবালাই দমনে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। অসময়ে বা আগাম সবজির ভালো দাম পেয়ে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আরো উৎসাহিত হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা