• শনিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২২ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাটুরিয়ায় আখ চাষে লাভবান কৃষক, বাড়ছে আবাদ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আখ চাষিরা ভালো লাভবান হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আখ চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন নতুন নতুন চাষি।

বিগত বছরের চেয়ে এ বছর উপজেলায় আখের চাষ বেশি হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়। এ বছর সাটুরিয়া উপজেলার চর সাটুরিয়া, রাধানগর, শেখরিনগর, ধুল্যা রায়পাড়া, পাড়াগ্রাম,জান্না, কৈট্টা, ধানকোড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিগত বছরের মতো এ বছরও চাষ হয়েছে আখের। তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আখের চাষ বেড়েছে এসব এলাকায়। 

বিশেজ্ঞদের মতে, আখের রসে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম এর স্বাদকে ক্ষারীয় (স্যালাইন) করে তোলে। এর রসে উপস্থিত এই উপাদানগুলো আমাদের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে। আখের রস অনেক ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়ক। তাই আখের রস শরীরে প্রাকৃতিক শর্করা সরবরাহ করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সেজন্য আখের উপকারিতা ও অধিক লাভের আশায় বিগত দিনের তুলনায় দিন দিন আখ চাষে ঝুুঁকছেন চাষিরা।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের আখ চাষি আব্দুস সালামের ছেলে জাহিদ হোসেন বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই দেখছে আমার বাবা আখ চাষ করেন। এ বছরও আমরা জমিতে আখ চাষ হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় আখচাষে লাভ বেশি হয়। এছাড়া আখ চাষে আরেকটি সুবিধা হলো, ক্ষেত থেকেই আখ বিক্রি করতে পারি। এজন্য গতবছরের তুলনায় এ বছর আমাদের আখ চাষ বেশি হয়েছে। আশা করছি সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে এ বছর আমরা অনেক লাভবান হতে পারব।উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কৈট্টা গ্রামের আখ চাষি মো. হারুন বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষ করতে অন্য ফসলের মত এত ঝামেলা নেই। এছাড়া আমরা একই সাথে আখ ক্ষেতে আখের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষ করতে পারি। যখন আখ ছোট থাকে তখন আমরা খেতে রসুন,পেয়াজ, আলু, মোলা সরিষা,খেশারি মশুরীসহ অন্যন্য ফসল চাষ করতে পারি।  এক্ষেত্রে লাভের পরিমানটা বেশি হয়।

উপজেলার কৈট্টা এলাকার চাষি অর্জুন সরকার বলেন, আমার বাপ দাদারাও আখ চাষ করতেন।  আমরাও করছি, অন্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে বেশি সুবিধা এবং বেশি লাভবান হতে পারি। বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতিটি আখ ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই আখ কিনে নেয়। এতে আমাদের পরিশ্রম এবং খরচ অনেকাংশে কমে যায়।

কান্দাপাড়া এলাকার চাষি সোহেল রানা বলেন, আমি এ বছর প্রথম আখ চাষ করছি। গত বছর দেখেছি আমার জমির আশেপাশের অন্য চাষিরা আখ চাষ করে বেশি লাভবান হয়েছে। তাদের দেখে আমি উৎসাহিত হয়ে এ বছর বিশ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছি। ইতিমধ্যে আমি ক্ষেত থেকে যে আখগুলো বিক্রি করেছি তাতে করে প্রায় আমার খরচের টাকা উঠে গেছে। বাকি  যেগুলো খেতে রয়েছে সেগুলো বিক্রি করে আমি অনেক লাভবান হতে পারব। তবে আগামী বছর আমি আমার আরো জমিতে বেশি করে আর চাষ করবো। এক্ষেত্রে যদি কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগীতা পায় তাহলে কৃষিতে আরো সফলতা পাওয়া যাবে।

ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি এলাকার চাষি ফিরোজ হোসেন বলেন, আমি গত বছর ২০ শতক জমিতে আখ চাষ করে ভাল টাকা পেয়েছি। তাই এবার ৪৫ শতক জমিতে আখ চাষ করেছি। এবার ফলন ভালো হওয়ায় এতে ও খরচ পুষিয়ে দ্বিগুন লাভবান হওয়ার আশা করছি। তবে আমরা সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনা। কৃষকদের দাবি, দেশের চিনি শিল্পের অন‍্যতম উপাদান এই আখচাষে তারা সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আরো বেশী আখ চাষ করে দেশের অর্থনীতিতে ভাল ভুমিকা রাখতে পারবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিধ মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সাটুরিয়া উপজেলায় এবার ২৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়। গত বছর উপজেলায় যেখানে ১৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছিল,এ বছর উপজেলায় ২৫ সেক্টর জমিতে করা হয়েছে।  আমাদের ধারনা ছিল এ বছর ২০ থেকে ২২ সেক্টর জমিতে এ বছর আখ চাষ হতে পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়েছে চাষিরা। তবে আখ চাষে কোন প্রদর্শনী না থাকায় আমরা কৃষকদেরকে পরামর্শ ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা দিতে পারি না। আমরা পর্যায়ক্রমে কৃষকদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ ও রোগবালাই সম্পর্কে সচেতন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কারনে কৃষকরা চাষে আগ্রহী হচ্ছে।  আশা করা যাচ্ছে আগামীতে আখ চাষ আরো বাড়বে। এতে করে আমিষের অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা