• সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৬ মুহররম ১৪৪৪

বড়শিতে ধরা পড়ল ১০০ কেজি ওজনের সামুদ্রিক শুশুক মাছ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২২  

টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী নদী থেকে বড়শিতে ধরা পড়েছে ১০০ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির সামদ্রিক মাছ শুশুক। সমুদ্রের দূর্লভ মাছ নদীতে ভেসে লোকালয়ে আসায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। একনজর শুশুক মাছটি দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। রোববার (৩১ জুলাই) ভোরে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু নামে এক যুবকের বড়শিতে ধরা পড়ে শুশুক মাছটি। সেন্টু টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।
 
এলাকাবাসী জানান, রোববার ভোরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গলিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু নামে এক যুবক সন্ধ্যা রাতে বোয়াল মাছ মারা বড়শি (জিয়ালা বড়শি) নদীতে ফেলে আসে। বড়শি ফেলার পর ছোট একটি বোয়াল মাছ বড়শিতে আটকে যায়। ওই যুবক মাছটি খুলে আনার জন্য যায়। এ সময় আকস্মিক ভাবে বিশাল আকৃতির শুশুক মাছ বড়শিতে আটকে যাওয়া বোয়াল মাছটিকে গিলতে গিয়ে আটকে যায়। পরে সেন্টু মাছটি দেখে ভয় পেয়ে ডাক চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার চিৎকার শুনে নদীপাড়ের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় মাছটি ডাঙ্গায় তুলে আনা হয়। এরপর শুশুক মাছটি স্থানীয় জাঙ্গালিয়া বাজারে নেয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ শুশুক মাছটি দেখতে সেখানে ভিড় জমান।
 
সেন্টু মিয়া বলেন, শনিবার সন্ধ্যা রাতে বোয়াল মাছ মারা বড়শি (জিয়ালা বড়শি) নদীতে ফেলে আসি। বড়শি ফেলার পর ছোট একটি বোয়াল মাছ বড়শিতে আটকে যায়। এ সময় ওই বোয়াল মাছটি আনতে যান তিনি। এ সময় আকস্মিকভাবে বিশাল আকৃতির শুশুক মাছ বড়শিতে আটকে যাওয়া বোয়াল মাছকে গিলে ফেলে। ওই মাছটি দেখে আমি ভয় পেয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করি। এ সময় আমার চিৎকার শুনে নদীপাড়ের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় জনতার সহায়তায় মাছটি ডাঙ্গায় তুলে আনা হয়।
 
সেন্টু আরো বলেন, শুশুক মাছটির ওজন আনুমানিক ১০০ কেজি হবে। ভোরে জাঙ্গালিয়া বাজারে নেয়া হলে ১৫ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় কয়েকজন। ক্রেতা ইসমাইল মিয়া জানান, মাছটি ১৫ হাজার টাকায় সেন্টুর কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়েছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে মাছটি ভাগ করে নিয়েছি।
 
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাছুম বিল্লা জানান, মাছটি বিলুপ্তির পথে। এটি সংরক্ষিত প্রাণী। সংবাদ পেয়ে আমরা বাজারে যাই। তবে এর আগেই স্থানীয়রা সেটি কিনে ভাগাভাগি করে নিয়ে যান।
 
তিনি আরো জানান, যদি জীবিত থাকত তাহলে আমরা উদ্ধার করে অবমুক্ত করতাম। এটি মারা, ধরা ও খাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে আমরা স্থানীয়দের সতর্ক করে দিয়েছি।
দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা