• শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ৮ ১৪২৮

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

যে বাগানে আম মেলে বছরজুড়ে

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২১  

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তিন বন্ধুর বাগানে আম মিলছে বছরজুড়ে। বারোমাসি আম বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা। দৃষ্টি কেড়েছেন কৃষি বিভাগের। তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন বারোমাসি আম বাগান তৈরিতে।


জাহিদ হাসান জয়, রুবেল মণ্ডল, মোহাম্মদ মাসুদ রানার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ছোট-ছত্রগাছা গ্রামে। তিনজনই পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র। লেখাপড়া শেষে তারা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত বছর করোনা মহামারি দেখা দিলে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন তিনজনই। শুরু করেন আম ও পেয়ারার বাগান। শুরুতে কিছুটা কষ্ট হলেও এখন আর তাদের তেমন একটা সমস্যা নেই। বাগান আম আর মুকুলে ভরে থাকে বারোমাস।


তাদের উদ্যোগের শুরু ২০১৯ সালের মার্চে। জাহিদ হাসান জয় বাবার কাছ থেকে চার বিঘা জমি নেন। সঙ্গে যুক্ত হন রুবেল মণ্ডল ও মোহাম্মদ মাসুদ রানা। জমিতে ৫শ’ বারোমাসি আমের চারা লাগান। পরে আরও ২০ শতক জমি বর্গা নেন। নিজেরাই বাগান পরিচর্যা শুরু করেন। জমি নিড়ানি, চারা রোপণ, খুঁটি দেওয়া, ঘের দেওয়া সবই করেছিলেন নিজ হাতে। পরে কুলিয়ে উঠতে না পারায় দিনে তিনশ’ টাকা মজুরিতে একজন শ্রমিক নেন। কিন্তু তার পারিশ্রমিক দেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ানোয় তিন তরুণ চাকরি নেন ঢাকার এক পোশাক কারখানায়। এখন শ্রমিক রেখে বাগান পরিচর্যা করাচ্ছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা।


গত আগস্ট মাস থেকে তাদের বাগানে শুরু হয় ফল ধরা। এখন সপ্তাহে ৩০ থেকে ৫০ কেজি আম বিক্রি করছেন তারা। মৌসুম শেষে বছরজুড়ে বাগানে উৎপাদিত প্রতিকেজি আম পাইকারি বিক্রি হয় ৫০০ টাকা দরে। এরপর থেকে আম ও পেয়ারা বিক্রি করেই স্বাবলম্বী তিন তরুণ।

 

এ ব্যাপারে তিন বন্ধুর পক্ষে রুবেল বলেন, তারা এই বারোমাসি থাই-কাটিমন আম বাগান থেকে এখন প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা। কেউ যদি চারা কিনতে বা কিছু শিখতে চান, তাহলে তারা সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা