• রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮

  • || ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা রাখতে পারবেন না

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২১  

নফল রোজাপালনকারী নিজের উপর কর্তৃত্বশীল। তার জন্য রোজা পূর্ণ করা বা ভেঙ্গে ফেলার অবকাশ রয়েছে। তবে রোজা পূর্ণ করাটা উত্তম। ইমাম আহমাদ (হাদিস নং ২৬৩৫৩) উম্মে হানি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) তার ঘরে প্রবেশ করে পানীয় চাইলেন এবং নিজে পান করলেন। এরপর উম্মে হানিকে দিলেন; তিনিও পান করলেন। এরপর উম্মে হানি বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো রোজাদার ছিলাম। তখন রাসূল (সা.) বললেন: “নফল রোজা পালনকারী নিজের উপর কর্তৃত্বশীল। চাইলে রোজা পূর্ণ করতে পারে; আর চাইলে ভেঙ্গে ফেলতে পারে।” (আলবানি হাদিসটিকে সহিহুল জামে গ্রন্থে ৩৮৫৪ সহিহ বলেছেন)

যে ব্যক্তি শাওয়ালের ছয় রোজা রেখেছে সে যদি রোজাটি ভেঙ্গে ফেলতে চায় ভেঙ্গে ফেলতে পারে। ভেঙ্গে ফেলাটা আহার করার মাধ্যমে হতে পারে; সহবাসের মাধ্যমেও হতে পারে; অন্য কোনো ভাবেও হতে পারে। এ নারী যদি স্বামীর বিনা অনুমতিতে রোজা রেখে থাকেন তাহলে স্বামীর অধিকার রয়েছে তাকে বিছানায় ডাকার এবং স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া তার উপর অনিবার্য। আর যদি স্ত্রী অনুমতি নিয়ে রোজা রেখে থাকে তাহলে স্ত্রীর রোজা নষ্ট করার অধিকার স্বামীর নেই। তবে স্বামী যদি সেটা চান তাহলে স্ত্রীর জন্য উত্তম হলো স্বামীর আহ্বানে সাড়া দেয়া।

بسم الله الرحمن الرحيم 
,

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা, নফল নামাজ পড়া,কোরআন তেলাওয়াত করা নিষেধ।   
(নাজমুল ফাতওয়া ৫/৩০৭) 
 

وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " لو كنت آمر أحدا أن يسجد لأحد لأمرت 
المرأة أن تسجد لزوجها " . رواه الترمذي
আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘‘আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ (তিরমিযি ১১৫৯)

عن سعيد بن المسيب ، عن عائشة رضی الله عنھا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ، قال : لو أمرت أحدا أن يسجد لأحد ، لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها ، ولو أن رجلا أمر امرأته أن تنقل من جبل أحمر إلى جبل أسود ، ومن جبل أسود إلى جبل أحمر ، لكان نولها أن تفعل
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।

যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে আদেশ করে যে লাল পাহাড় কে কালো পাহাড়ে পরিবর্তন করতে বা তার বিপরীত,তাহলে স্ত্রীকে এমন কাজই করতে হবে। (ইবনে মাজাহ ১৮৫৩ নং হাদীস ১৩৩-১৩৪ নং পৃষ্ঠা)
 
সুতরাং সেই নারী তার স্বামীকে ধারাবাহিক ভাবে বুঝাইতেই থাকিবে। তাকে দ্বীনদার বানানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। উল্লেখ্য যে যদি সময় সুযোগ হয়,কোনো কাজ না থাকে,তাহলে উক্ত সময়ে কোরআন তেলাওয়াত বা  নফল নামাজ পড়তে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত নফল রোজা কোনোভাবেই রাখা যাবেনা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা