বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৩৮

সুন্দরগঞ্জের ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স, বাঁচিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত মানুষের

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ফ্রি আ্যাম্বুলেন্স সেবা। বাঁচিত তুলছে প্রতিনিয়ত মানুষের প্রাণ। সড়ক দূর্ঘটনা কিংবা মুমূর্ষু রোগী ফোন পেলেই ছুটে আসে স্থানীয় সাংসদের দেয়া ফ্রি আ্যাম্বুলেন্স সেবা।

সার্বক্ষনিক গরীব, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের গর্ভবতী মা ও মুমূর্ষু রোগী পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছে দুটি আ্যাম্বুলেন্স। প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য ২৪ ঘন্টার পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তিনজন দক্ষ চালক।

এঁরা প্রতিদিন শহর-বন্দর ছাড়াও প্রত্যান্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অঙ্গিকার অনুযায়ী গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এম্বুলেন্স দুটি উপহার দিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হলে বিনামূল্যে রোগী পরিবহনের জন্য আ্যাম্বুলেন্স দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া কথা রেখেছেন প্রায় এক বছর আগেই। ঢাকায় শপথ নেয়ার পরেই আ্যাম্বুলেন্স দুটিসহ এলাকায় ঢোকেন এমপি। সেই থেকে প্রতিনিয়ত দুস্থ, গরীব ও অসহায় রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে আ্যাম্বুলেন্স দুটি। ফলে প্রতিনিয়ত বাঁচিয়ে উঠছে মানুষের প্রাণ।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম মেয়াদে জাতীয় পার্টি থেকে ৭ মাসের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিনামূল্যে রোগী পরিবহনের জন্য আ্যাম্বুলেন্স দুটি ক্রয় করেন।

এ পর্যন্ত আ্যাম্বুলেন্স দুটি বিনামূল্যে প্রায় দশ হাজার অসহায়, গরীব ও দুস্থ প্রসূতি মা এবং মুমূর্ষু রোগী পরিবহন করেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন করে রোগী পরিবহন করেন আ্যাম্বুলেন্স দুটি।

এসব রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ছাড়াও গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পৌছে দেন। তবে বেশির ভাগ রোগীই উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে প্রায় ৮ লক্ষ্য মানুষের বসবাস। এত মানুষের রোগী পরিবহন করতে সরকারি আ্যাম্বুলেন্স আছে মাত্র একটি।

এতে চরম বিপাকে পরতে হয় রোগীর স্বজনদের। আর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন একেবারে তিস্তা নদী বিধৌত। তাই সরকারি এম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলো এ অঞ্চলের মানুষ। তবে চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ আ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন ।

তাই এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দুই ভাগে বিভক্তি করে সেবা দিচ্ছে আ্যাম্বুলেন্স দুটি। চরাঞ্চলের রোগী পরিবহন করতে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে বিভক্ত করে সেবা দিচ্ছে আ্যাম্বুলেন্স দুটি।

এদিকে, বিনামূল্যে রোগী পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছেন সাংসদের বিশেষ সহকারী নুর মোহাম্মদ রাফি। তিনি প্রতিনিয়ত রোগী পরিবহন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করেন। তবে দুস্থ ও অসহায় মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মুমূর্ষু রোগী বিনামূল্যে আ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে থাকেন।

আ্যাম্বুলেন্স জরুরি সেবা কেন্দ্রের তথ্য মতে, সার্বক্ষনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আ্যাম্বুলেন্স দুটির প্রতিদিন গড় ব্যয় হয় সাড়ে সাত-আট হাজার টাকা।

অকটেন দিয়ে চালানো আ্যাম্বুলেন্স দুটিতে প্রতিদিন জ্বালানি ব্যয় হয় প্রায় ৯০ লিটার। এতে মাসিক ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লক্ষ্য টাকা। আর দুজন চালকের বেতন দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। যা সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া সম্মানি ভাতার পুরোটা জনসেবার কাজে ব্যয় করেন।

এর বাহিরে আরো ৫০ হাজার টাকা ভূর্তুকি দেন তিনি। বিনামূল্যে সেবা দেয়া এম্বুলেন্স দুটি ৮ লক্ষ্য মানুষের পুরো চাহিদা মেটাতে না পারলেও অনেক হতদরিদ্র পরিবারের আস্থা অর্জন করেছে। কন্ট্রোল রুমে রোগীর পরিবার থেকে ফোন পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক চালককে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

আর কোন রোগীর স্বজনদের কাছে চালক যেনো টাকা নিতে না পারে সেটা আগেই পরিবার গুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়। সাংসদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগী পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করেন দায়ীত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধি।

কোন স্বজনের অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিক আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করে সাংসদ নিজেই। বিনামূল্যে এম্বুলেন্স দুটি গর্ভবতী মা ও মুমূর্ষু রোগী পরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে গরীব ও দুস্থ রোগী ছাড়াও বিত্তশালীদের জরুরি মূহুর্তে রোগী পরিবহন সেবা দেন বিনামূল্যে।

সেবাদানকারীদের অনেকটা বিড়ম্বনাও প্রহাতে হয় প্রতিনিয়ত। গর্ভবতী মা ও মুমূর্ষু রোগী ছাড়াও সামান্য আহত রোগীর স্বজনরা এম্বুলেন্স সেবার জন্য জরুরি সেবা কেন্দ্রে ফোন দেন। এতে মুমূর্ষু রোগী বাদ দিয়েই সেখানে চালককে যেতে হয় এম্বুলেন্স নিয়ে। অনেকটা বিরক্ত হলেও তাদের বুঝিয়ে ফিরে আসে চালকরা। পুনরায় জরুরি রোগীর সেবা দিতে চলে যান চালকরা।

এম্বুলেন্স চালক সবুজ মিয়া ও মোশাররফ হোসেন জানান, গত এক বছরে কয়েক হাজার রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। এসব রোগীর বেশির ভাগ চরাঞ্চলের হতদরিদ্র। তাদের মধ্যে গর্ভবতী মায়ের সংখ্যা বেশি। তবে এত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয় আমাদের। তবুও মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে শান্তি পাই।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এ উপজেলায় প্রায় আট লক্ষ্য মানুষের জন্য একটি সরকারি এম্বুলেন্স। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই প্রথম মেয়াদে সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়ে নিজ অর্থায়ানে এম্বুলেন্স দুটি উপহার দেই।

আমার সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া সম্মানি ভাতার পুরো অর্থ এম্বুলেন্স সেবার জন্য ব্যয় করছি। তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমার পক্ষ থেকে একটি মিনি হাসপাতাল তৈরি করবো। তবে প্রতিনিয়ত আমার উদ্যােগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প এসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
এই বিভাগের আরো খবর