• শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

সাদুল্লাপুরে ইউপি নির্বাচন দেড়ি হলেও মাঠে প্রার্থীরা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

মাঠে ততপর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মরন আত্বঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির শেষ কবে-বিশ্ব জুড়ে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা হলেও এর মধ্যেই দেশে সময় ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন। আগামী ইউপি নির্বাচনে সব ইউনিয়নের নির্বাচনের হাওয়া না লাগলেও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে প্রার্থীরা মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনাগেলেও মাঠে বর্তমানে নতুন মুখ বনগ্রাম ইউনিয়ন আ’লীগ ও উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নৌকা মার্কার সম্ভাব্য প্রার্থী মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা ছাড়া মাঠে আর কেউ নেই।

এদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র হলেও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কামারপাড়া। এই ইউনিয়নে সাবেক- বর্তমান চেয়ারম্যান ও অনির্বাচিত প্রার্থী থাকলেও নতুন কিছু মুখ নির্বাচনে জনগনের সমর্থনে নৌকা মার্কার সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নেমেছেন তারা হচ্ছেন উপজেলা আ’লীগের সদস্য ও গাইবান্ধা-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতির ইউনিয়ন উন্নয়ন কমিটির প্রতিনিধি এবং শাহানা ফিলিং স্টেশনের সত্বাধীকারী সমাজসেবক কর্মী বান্ধব জনগনের উন্নয়নের আশার আলো মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবলা

কামারপাড়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি থেকে নব্য আ’লীগে যোগদানকারী শিক্ষক তারিকুল ইসলাম বংকু নৌকার প্রার্থী হিসাবে মাঠে তোড়জোড় চালাচ্ছেন।কামারপাড়ার পরানলক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আঃ সালাম জানান,অনেক চেয়ারম্যানকেকে ভোট দিয়ে দেখেছি নির্বাচনে পর আর হামার ঘরে খোজ নেয় না,আসেও না বর্তমানে নতুন যে প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবলা চাচা নির্বাচন না করার আগে আমাদের ও গরিব মানুষের পাশে ছিল তাই এবারে ওনি নৌকা মার্কা পেলে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং আমাদের অবহেলিত অউন্নয়ন ইউনিয়নে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ ও নির্বাচন শুরুর সম্ভাব্য হিসাব করলে ভোটের এখনো ৩ থেকে ৬ মাস বাকি থাকলেও এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। দেশের কোনো কোনো এলাকায় এই তোড়জোড়ের ব্যাপকতা দেখা যায় । নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে নামছেন স্থানীয় সমর্থক । এখানেই থেমে থাকছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের ততপরতা দেখলে মনে হতে পারে, আর কদিন পরেই যেন ভোট। ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো এখনই প্রায় সরগরম। কোথাও কোথাও শুরু হয়ে গেছে চা-পান বিড়ি-সিগারেটের ছড়াছড়ি।

ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ সদস্যদের নির্বাচনী মহড়া । সেই সাথে চলছে ভোটারদের মুখ রোচক সমালোচনার কথোপকথন। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই আগাম বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন ভোটারদের পেছনে।আবার শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ প্রার্থীদের নির্বাচনের খরচও বহন করার প্রতিশ্রুতি । নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাযায়, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। ২০১৬ সালের ২২ মার্চ শুরু হয়ে কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয় ঐ বছরের ৪ জুন।

আইন অনুযায়ী কোনো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ হবে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী বছরের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে। আর যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আগামী বছরের জুনের প্রথম দিকেই শেষ হবে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে। যেহেতু দেশে কোভিড-১৯-এর সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দুই-তিন মাসেও আশানুরূপ উন্নতি হবে বলে মনে হচ্ছে না; সেই কারণে সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো করা বড় চ্যালেঞ্জ।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা