শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৬৯

সন্তানের লিঙ্গ নির্ভর করে তার বাবার ভাই-বোনের সংখ্যার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

 
সন্তানের লিঙ্গ নির্ভর করে মায়ের ওপর এই কথাটি নিশ্চয়ই অনেকেই জানেন! তবে এটি অতীতের প্রচলিত একটি ধারণা মাত্র। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই ধারণাই সবাইকে চালিত করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ধারণাটি বদলেছে। এখন আমরা সবাই জানি, সন্তানের লিঙ্গ নির্ভর করে বাবার ওপর।

একজন নারী শুধুই এক্স (x) ক্রোমোজোম বহন করেন। পুরুষের সেখানে এক্স এবং ওয়াই (X and Y) দুই ক্রোমোজোমই থাকে। এবার শুক্রাণু কোন ক্রোমোজোম বহন করছে, তা ঠিক করে দেয় সন্তান মেয়ে হবে না ছেলে। যদি এক্স ক্রোমোজোম শুক্রাণুর মাধ্যমে মহিলার ডিম্বাণুর এক্স ক্রোমোজোমের সঙ্গে মিলিত হয়, তা হলে কন্যা সন্তান হয় এবং ওয়াই ক্রোমোজোম মিলিত হলে পুত্র সন্তান হয়। 

গরেষণার মাধ্যমে এই সত্য বহুদিন আগেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে এখনো অনেকেই আছেন যারা নারীদেরই এর জন্য দায়ী করেন। সম্প্রতি, আর একটি গবেষণায় এই প্রসঙ্গে আরও তথ্য জানা গেছে। ‘নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটি’-র গবেষকরা উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপের হাজার হাজার পরিবারের ওপর পরীক্ষা করেছেন। ৯২৭টি ফ্যামিলি ট্রির ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ মানুষ এই গবেষণায় সামিল হয়েছিলেন। 

প্রধান গবেষক কোরি গেলাটলি জানিয়েছেন, সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে তা অবশ্যই পুরুষের ক্রোমোজোমের ওপর নির্ভর করে। এবার সেই পুরুষের যদি বেশি সংখ্যায় ভাই থাকে, তাহলে তার ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্য দিকে তার যদি বোন থাকে, তাহলে তার কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গেলাটলি আরও বলেছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই কথাটা খাটলেও নারীদের ক্ষেত্রে এরকম কোনো প্রমাণ পাননি তারা। জানা গেছে এমন একটি জিন আছে পুরুষদের শরীরে যা ঠিক করে দেয় তাঁ শুক্রাণু বেশি সংখ্যক এক্স ক্রোমোজোম বহন করবে না ওয়াই ক্রোমোজোম। আর এর ওপরই স্বাভাবিকভাবে নির্ভর করবে তার সন্তানের লিঙ্গ।

একটি জিনের দু’টি ভাগ থাকে। বাবা ও মা দু’জনের থেকেই এই অংশ উত্তরাধিকারসূত্রে পায় ছেলে-মেয়েরা। ডাক্তারি পরিভাষায় এই অংশগুলোকে বলা হয় অ্যালিলেস। গেলেটলির মতে, পুরুষরা দু’ধরনের অ্যালিলেস বহন করেন যার ফলে জিনে এক্স ও ওয়াই ক্রোমোজোমের অনুপাত তিন রকম ভাবে থাকতে পারে।

যদি কোনো পুরুষ বেশি সংখ্যক ওয়াই ক্রোমোজোম বহন করেন, তাহলে তার ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যাদের এক্স ও ওয়াই ক্রোমোজোমের সংখ্যা সমান সমান, তাদের ক্ষেত্রে ছেলেও হতে পারে আবার মেয়েও। গেলেটলি আরও বলেছেন, এই জিনের কারণেও কোনো কোনো পুরুষের বেশি সংখ্যায় মেয়ে সন্তান হয় আরও কারও ক্ষেত্রে আবার ছেলে সন্তানের সংখ্যা বেশি। 

মোটামুটি সারা পৃথিবীতে ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা কিন্তু সমান সমান। এবার যদি ছেলের সংখ্যা বেড়ে যায়, তাহলে নারীদের পক্ষে আদর্শ সঙ্গী খুঁজে পাওয়াটা বেশি সহজ হয়ে যাবে। এবার যদি দেখা যায়, বেশিরভাগ পুরুষদের মধ্যে এক্স ক্রোমোজোমের অনুপাত বেশি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মে মেয়ের সংখ্যা বেশি হবে। এভাবেই জনসংখ্যার সমতা বজায় থাকে বলে দাবী করেছেন গেলেটলি।   

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা