• বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৮ ১৪২৭

  • || ০৫ সফর ১৪৪২

৪৩

শক্তিশালী সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই: নানক

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২০  

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, শক্তিশালী সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যারা ঘটিয়েছিল, একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী ও পাকিস্তানি  গোষ্ঠী যারা, তারা চুপ করে বসে নেই। একাত্তরে পরাজিত হলেও এরপর রাজাকার, আলবদর, আলশামস চুপ করে বসে ছিল না। আমরা সেদিন তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারিনি। তার জন্য জাতিকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে। সেই ভুল আর করা যাবে না।

আজ রাজধানীর প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল  হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।     

১৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরে নানক বলেন, সে সময় আমরা প্রতিবাদের ডাক পাইনি। আমরা প্রতিরোধের ডাক পাইনি। আমরা যুদ্ধের ঘোষণা পাইনি একটি  নেতার অভাবে। সেদিন নেতৃত্বের মধ্যে ভীরুতা, কাপুরুষতা, দোদুল্যমানতা এবং আপসকামীতার কারণে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকার্মীরা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে, আহাজারি করেছে।

শেখ মুজিবের আদর্শের সেই কর্মীরা এক-এগারোর সময় দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কতটা নিবেদিত। এই নগর আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেছিল, প্রতিরোধ করেছিল। নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে আপনারা হুংকার দিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। তাই সেই শক্তি, এক-এগারোর অপশক্তি, তারা শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে রাখতে পারেনি। 

সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে বলেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হচ্ছে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা বলেন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি, তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মানে না বলেই শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো বসে নেই। সড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। তাই আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাছিম বলেন, করোনাকালে আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও সংগঠন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই কাজ করেছে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের ঘনঘটা চলছে। কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রকারীরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজন আছে। কিন্তু কি পরিমাণ হবে? জীবিকার তাগিদে ব্যবসা করবে। কিন্তু ব্যসায়ীদের হাতে রাজনীতি চলে গেছে ঠিক হবে না। আওয়ামী লীগ নীতি ও আর্দশের দল। জনগণের কাছে  যেতে হবে। 

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, সারাদেশের সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ঢাকা বিভাগ সচচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে। বিশেষ করে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের অবস্থা করুণ। যে কোনো জনসভায় সফল করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রলীগকে বর্ধিত সভা করার লাগে। অনেক জেলা থেকে ঢাকা মহানগরী সাংগঠনিক ভাবে অনেক পিছিয়ে আছি। ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণ।

ঢাকা শহরে আমরা দুর্বল থাকি তাহলে সারা বাংলাদেশে সবল থেকেও আমরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবো না। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এগারো বছর। পরপর তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছি। আমরা দলের নেতাকর্মী বুকে হাত দিয়ে কী বলতে পারবো, আমাদের কোন অবদানের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এসেছে। অবদান শুধু এক মাত্র শেখ হাসিনার। তার প্রজ্ঞার কারণে তিনবার আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এনে দিয়েছেন। 

আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা দলীয় ভাবে কতটুকু করেছি। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় ১৯৭০ এর নির্বাচনের চেয়েও জোয়ার  বেশি। শেখ হাসিনা চান ২০০ আসন। আর বাংলাদেশের মানুষ  শেখ হাসিনাকে ভোট দেয় ২৬৪টি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কী হয়েছে। আমরা  হতাশ ছিলাম। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছে গেলে বুকের প্রাণ ফিরে পেতাম।

তিনি বলতেন, আমরা আবার ক্ষমতা আসবো। ২০১৮ নির্বাচনে আপনার আমরা কী ভূমিকা ছিল। সমস্ত কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। আপনারা বলেন, ১১ বছর আগে কার কী ছিল? এই আওয়ামী লীগের একটা মিটিংয়ে আজকে বাহিরে দেখেন এক কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির সারি।

আজকে নেত্রী ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। আমাদের সকলের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের প্রতিনিয়ত যাদের দ্বারা ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনার অর্জনগুলো বিসর্জন হচ্ছে, তারা কী মিটিংয়ে কেউ নাই। তারাও কিন্তু মিটিংয়ে আছে। তারাও হাততালি দিচ্ছে। হাততালি শুধু মিটিংয়ের মধ্যে দিলে হবে না।

আমরা  যদি মনে করি, ১১ বছরে যা করছি এই পর্যন্ত ক্ষান্ত দেই। এখন একটু দলের দিকে তাকাই। শেখ হাসিনার ইমেজ বিল্ডাপ করি, সামনে ভোট আছে, যদি আমরা বাদ দেই তাহলে দলটা রক্ষা পাবে। তা না হলে এই যে বক্তৃতা দিলাম, হাততালি দিলাম, যার ব্যবসা সেটা চালু রাখলাম তাতে কিন্তু শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের নির্বাচনের যে বৈতরণী আমরা কিন্তু পার হতে পারবো না।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, আমরা ব্যক্তি দুর্নীতি-লুটপাট করবো আর নাম হবে আওয়ামী লীগের। আমরা অপকর্ম করবো আর জনগণের গালি খাবে আমাদের নেত্রী। কেন এটা হবে? আমরা এমন কিছু করবো না যাতে দল ও নেত্রীর বদনাম হয়। দল ক্ষমতায় আছে বলেই আমরা ভাল আছি। সামনে ভোট আছে, জনগণের কাছে যেতে হবে। মানুষের মন জয় করতে হবে।

এক শেখ হাসিনার ইমেজের উপর ভর করে বার বার ক্ষমতায় আসার প্রবণতাটা ভাল না। যারা নেতা-এমপি-মন্ত্রী আছেন তাদের আচরণ ভাল করেন। সৎ কাজ করেন। অন্যথায় জনগণ থেকে বিচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন। এ জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। কোন ব্যক্তির ম্যান বানানো চলবে না। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কর্মী তৈরি করতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর