• রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

লেখক পরিষদ সম্মাননা পাচ্ছেন গাইবান্ধার ময়নুল হোসেন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২০  

রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদ সম্মাননা ২০২০ পাচ্ছেন গাইবান্ধার বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক নাট্যকার ময়নুল হোসেন। আগামী ১ ডিসেম্বর রংপুর টাউন হলে বিভাগীয় সাহিত্য সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাহিত্যিক কবি ময়নুল হোসেন কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোট গল্পসহ নানা বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সাহিত্যের অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছেন। তার লেখা ১৯টি নাটক এ পর্যন্ত মঞ্চস্থ হয়েছে। এরমধ্যে দর্শক নন্দিত মঞ্চ নাটক ছিল ২টি, পথ নাটক ১৫টি, রেডিও নাটক ১টি এবং ১টি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়। উল্লেখ্য, তার পথ নাটক ‘রসিক বিড়ম্বনা’ ৫শ’ এর বেশীর প্রদর্শনী প্রদর্শিত হয় ইউনিসেফের সহযোগিতায়। এছাড়া ‘বিকশিত গাইবান্ধা’ নাটকটিও ৪০ বার মঞ্চস্থ হয়।

ইতোমধ্যে ৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থগুলো হচ্ছে উপনাস আহত স্বাধীনতা, গল্পগ্রন্থ কত ব্যাথা বুকে, কবিতার বই স্বাধীনতা তুমি কার এবং রম্য রচনা ময়েজ ভাইয়ের ভয়েজ। এছাড়াও তার ৫০টি যৌথ কবিতা, উপনাস ও ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থগুলো ছাড়াও তার কবিতা, নাটক, উপনাসের পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়েছে। যা অর্থাভাবে তিনি প্রকাশ করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে কোন প্রকাশকের সহযোগিতা পেলে এই গুণী সাহিত্যিকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতো।

লেখালেখির পাশাপাশি ময়নুল হোসেন অভিনয়, নাট্য নির্দেশনা এবং মেকাপম্যান হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন এবং এখনও তিনি এই দুটি ক্ষেত্রে চর্চা অব্যাহত রেখে চলেছেন। উল্লেখ্য, তিনি গাইবান্ধার এখন একমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেকাপম্যান। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। সাহিত্য এবং নাটকের ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননাগুলো হলো- ২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ নির্দেশক হিসেবে তিনি পুরস্কৃত হন এবং লেখালেখিতে ২০০৬ সালে বাংলা সাহিত্য পদক, ২০০৭ সালে বইমেলা পদক, ২০০৯ সালে মেঘদুত শুভেচ্ছা স্মারক, ২০১১ সালে নজরুল সাহিত্য সম্মাননা ও নজরুল ইসলাম রানা সাহিত্য পদক, ২০১৩ সালে নীলফামারীতে বিভাগীয় সম্মাননা, ২০১৫ সালে আমজাদ আলী মন্ডল স্মৃতি স্বর্ণ পদক এবং ২০১৯ সালে সফল নাট্যকার হিসেবে সম্মাননা পান।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকার প্রয়াত পিতা ডা: মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন ও মাতা প্রয়াত ছামিরন নেছার ঔরষে ময়নুল হোসেন ১৯৫৯ সালের ৩ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এখনও কাজ করে চলেছেন। সেগুলো হলো- পাবনা সাহিত্য পরিষদের আজীবন সদস্য এবং সদস্য গাইবান্ধার মেঘদুত ও জাতীয় সাহিত্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা এবং বর্তমানে তিনি গাইবান্ধার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার নির্বাচিত সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই গুণীজনের রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদ সাহিত্য সম্মাননা প্রাপ্তি তার এই সাহিত্য বিষয়ক কর্মকান্ডের সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করবে সেই প্রত্যাশা গাইবান্ধাবাসীর।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা