• রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭

  • || ২৩ রজব ১৪৪২

মাটির নিচে কৃষকের ‘গুপ্তধন’

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২১  

গাইবান্ধায় সবজির ভান্ডার হিসেবে বিখ্যাত সাদুল্লাপুর উপজেলা। এ উপজেলার উঁচুভূমি ধাপেরহাট, ভাতগ্রাম ইদিলপুর ও রসুলপুর এলাকায় উৎপাদিত হয় প্রচুর সবজি ও গোল আলু। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কৃষকরা আলু চাষে বেশি লাভবান হন। আলু বিক্রি করেই পরিবারের ভরণপোষণ চালান কৃষকরা। তাই মাটির নিচের আলুই কৃষকদের কাছে ‘গুপ্তধন’।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে। ফলে সব আলু চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক উঁকি দিচ্ছে। তাছাড়া বাজারে আলুর ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।

ধাপেরহাটের আরাজী ছত্রগাছা গ্রামের আলুচাষি সোহেল মিয়া বলেন, ‘প্রতি একর আলু চাষে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তবে প্রতি একরে ফলন পাওয়া যায় ২৫০ মণ। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি মণ আলু (প্রকারভেদে) ৫০০-৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করা যাবে। ফলে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে।’

হাসানপাড়া গ্রামের আলুচাষি এন্তাজ আলী বলেন, ‘ধাপেরহাট আরভি হিমাগারের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ করতে ৩০০-৩৩০ টাকা খরচ হয়। দেশীয় পদ্ধতিতে কৃষকরা বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করলে খরচ পড়বে প্রতিবস্তা মাত্র ২০-২৫ টাকা। ৬/৭ মাস পর ওই আলু বের করলে প্রতিমণ আলু ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব।’

রসুলপুরের বড় দাউদপুর গ্রামের আলু চাষি আজিজার রহমান বলেন, ‘অন্যান্য ফসলের চেয়ে আলু চাষ অত্যন্ত লাভজনক। জমি থেকে সংগ্রহ করার পর আলু তুলনামূলক ঠান্ডা ও বায়ু চলাচল উপযোগী এমন শুষ্কস্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া এবং ছনের ছাউনি দিয়ে ভূমি থেকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে উচুঁ ঘর তৈরি করতে হয়। আলুর শ্বাস-প্রশ্বাসের তাপ বের হওয়া এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। মেঝেতে বাঁশের চাটাই কিংবা বালু বিছিয়ে আলু রাখতে হয়। এভাবে দেশীয় পদ্ধতিতে ৬-৭ মাস আলু সংরক্ষণ করা যায়।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে কৃষকদের সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া বলেন, ‘এ অঞ্চলের কৃষকরা দেশি জাতের আলু ছাড়াও হাইব্রিড জাতের কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, স্ট্রিট এবং গ্যানোলা জাতের আলু বেশি চাষ করেন। আর এক মাস পর কৃষকরা আলু সংগ্রহ শুরু করবেন।’

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা