• মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

১৬

মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটকে আরবান হাসপাতাল করার পরিকল্পনা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২০  

বর্তমানে করোনার আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালী এলাকার মার্কেটটিকে ৫০০ শয্যার আরবান (নগর) হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

রোববার (৯ আগস্ট) মহাখালীতে ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। পরিদর্শনকালে মেয়র আইসোলেশন সেন্টারটি ঘুরে দেখেন এবং করোনা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন ডিএনসিসি মার্কেট মূলত পাইকারি কাঁচাবাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটি বাজারে বাস্তবায়ন করা যায়নি। ৭০০ দোকান বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে গত বছর আমরা সিটি করপোরেশনের বাজেট প্রণয়ন করেছিলাম। কিন্তু এর মাঝে কোভিড এলো। কোভিড আমাদের অনেক বড় শিক্ষা দিয়ে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো হাসপাতাল নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশন যখন দুই ভাগ হয় তিনটি হাসপাতালই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পড়েছে।

তিনি বলেন, মার্চের শুরুতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে আমরা বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে এই মার্কেটকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি আর্মড ফোর্স ডিভিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর্মড ফোর্স ডিভিশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে আমি একটি মিটিং করে কাজ শুরু করি।

আতিকুল ইসলাম বলেন, যারা বিদেশ যাচ্ছেন, তারা করোনা পরীক্ষা নিয়ে সমস্যার মধ্যে থাকেন। তাই এই মার্কেটটিকে পরে কোভিড টেস্টের জন্য রূপান্তর করা হয়। যারা বিদেশ যাবেন, তারা যাতে করোনা টেস্টের সনদ নিতে পারেন। এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। আমরা এখান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড টেস্টের ফল দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। প্রথম দিন ২০ জুলাই এখানে ১২৩ জন পরীক্ষা করতে এসেছিল। আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল, যারা বিদেশ যাবেন তারা যেন নির্বিঘ্নে, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই করোনা টেস্ট করতে পারেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার করোনা টেস্ট করা যায়। এই ক্যাপাসিটি আমরা অর্জন করেছি। এখানে পুরো দেশ থেকেই মানুষ আসে করোনা পরীক্ষার জন্য। মানুষ যতই অনলাইনে ফরম ফিলাপ করে অনলাইনে টাকা জমা দিতে পারে, সে ব্যবস্থা করার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। আমরা চাই, নগরবাসীকে যথাসম্ভব কষ্ট কম দিতে।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ৭.১৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটটির আয়তন এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট। যেহেতু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো ধরনের আরবান হাসপাতাল নেই, এটিকে কীভাবে আরবান হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়, আমরা তার পরিকল্পনা করছি। এই ভবনকে আমরা যদি আরবান হাসপাতালে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে নগরবাসীর জন্য অনেক সুবিধা হবে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুরে আরেকটি মার্কেট আছে, প্যারিস মার্কেট। সেটাকেও কীভাবে হাসপাতালে রূপান্তর করা যায় তা চিন্তাভাবনা করছি। এই দুটি ভবনকে হাসপাতালে রূপান্তর করার জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা আমরা জমা দেব। এখানে বেড থেকে শুরু করে সব ধরনের ইক্যুইপমেন্ট মোটামুটি আছে। ছয়তলায় ইংল্যান্ড থেকে আনা উন্নত মানের ২৫টি আইসিইউ আছে। আমরা এটিকে অচিরেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক মাপের হাসপাতাল করার ইচ্ছা আমরা পোষণ করছি। আমাদের কাউন্সিলরাও এতে মত দিয়েছেন। আমাদের সবই আছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ডাক্তার, নার্স পেয়েছি, সিএমএইচ থেকে ১৯ জন অফিসার পেয়েছি। আমরা সবাই মিলে চাই নগরবাসীকে একটি সুন্দর হাসপাতাল উপহার দিতে। আমি মনে করি, এখানে হাসপাতাল হলে নগরবাসী উপকৃত হবে।

পরিদর্শনকালে আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জুবায়েদুর রহমান, আর্মড ফোর্স ডিভিশনের মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্ল্যানিং) এ এন এম মঞ্জুরুল হক মজুমদার, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, আঞ্চলিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর