• বুধবার   ০৮ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৪ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৮

বিশেষ ব্যবস্থায় একনেক বৈঠক শুরু ২ জুন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২০  

করোনার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেমে আসা বিপর্যয় ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২ জুন বিশেষ পদ্ধতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শুরু হবে।

প্রায় আড়াই মাসের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে করোনাকালীন বিশেষ অনুমোদন পাওয়া চার প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সরাসরি করোনা মোকাবেলায় আড়াই হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এগুলো অনুমোদন দিলেও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একনেককে সে বিষয়ে অবগতি করা হবে।

এদিকে সরকারি অফিস খোলায় শুরু হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমও। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জোনিং করে করোনার হটস্পটগুলো বাদ দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন।

পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন বৃহস্পতিবার জানান, বিশেষ পদ্ধতিতে বৈঠক হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। আর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু ৩১ মে থেকে সরকারি অফিস খুলছে, সেহেতু চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যে কয়েকটি প্রকল্প চলতি অর্থবছরের শেষ করা যাবে সেগুলোতে বিশেষ নজর দেয়া।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, গত আড়াই মাস একনেক বন্ধ থাকায় বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ শেষে জমা হয়ে আছে। তবে এবারের একনেকে ৬-৮টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হতে পারে। তাছাড়া করোনার কারণে গুরুত্ব বিবেচনা করে করোনা সংশ্লিষ্ট দুটি এবং বিশেষ সহায়তা সংশ্লিষ্ট দুটিসহ মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

যেহেতু একনেক ছাড়াই এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এখন সেগুলো একনেককে অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকতা জানান, অবগতির জন্য উপস্থাপিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় করোনা মোকাবেলা প্রকল্প, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় করোনা মোকাবেলা প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। এসব প্রকল্পের বিষয়ে পর্যালোচনার পর কোনো সুপারিশ থাকলে তা গ্রহণ করে একনেকের রেজুলেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেমে আসা বিপর্যয় ঠেকানোর জন্যই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা উচিত। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে হিতে যাতে বিপরীত না হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন পূর্বশর্ত করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। সেটি এখনও হয়নি। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জোনিং করতে হবে (লাল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি)। দেশের যেসব এলাকা করোনার হটস্পট সেগুলোতে আপাতত প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখতে হবে।

সূত্র জানায়, একনেক উপস্থাপন হতে যাওয়া করোনা মোকাবেলার প্রথম প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপার্ডনেস’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের দেয়া সহজশর্তের ঋণ থেকে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বাকি টাকা ব্যয় হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

এছাড়া করোনা মোকাবেলায় ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্ড অ্যান্ড পেন্ডামিক রেসপন্স’ শীর্ষক প্রকল্পটিও উপস্থাপন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর