• মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

১২

বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছে শেখ কামাল : প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২০  

শহীদ শেখ কামালের বহুমুখী প্রতিভা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে বেঁচে থাকলে দেশ ও সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারত। তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে দেশের সব অঙ্গনে সে অবদান রাখতে পারত। শেখ কামালের নতুন নতুন চিন্তাভাবনা ছিল। সেই চিহ্ন সে রেখেও গেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও নিজের ভাই শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ছোটবেলা থেকেই কামাল শুধু খেলাধুলা নয়, সাংসারিক কাজেও মাকে সব ধরনের সহযোগিতা করত। ছোট্ট বয়স থেকেই সে খুব দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করত।

তিনি বলেন, 'কামাল আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। কিন্তু তার জ্ঞানবুদ্ধি সবকিছুতে একটা পরিণতবোধ ছিল। একদিকে যেমন ক্রীড়া সংগঠক ছিল, সাংস্কৃতিক জগতেও তার বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে। স্পন্দন শিল্পগোষ্ঠী সে সৃষ্টি করেছে। ঢাকা থিয়েটার যখন হয়, সেখানেও তার অবদান ছিল। সে নিজে অভিনয় করত, গান গাইত। সেতার বাজাত।'

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের সবচেয়ে বড় অবদান খেলাধুলার মাঠে। ধানমন্ডি এলাকায় কোনো রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা ছিল না। সে-ই উদ্যোগ নেয় এবং ওখানকার সবাইকে নিয়ে আবাহনী গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের পর এই আবাহনীকে আরও শক্তিশালী করে।

শেখ হাসিনা বলেন, 'রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকাও অপরিসীম। ছয় দফার পর থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়; আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর আন্দোলন গড়ে ওঠে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে- প্রতিটি সংগ্রামে কামালের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে।'

প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ কামালের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজে পড়ার সময় সে মিছিল নিয়ে চলে আসত বটতলা, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছে। এমনকি ২৫ মার্চ রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে সরকারের নির্দেশে কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।'

তিনি বলেন, 'শেখ কামাল নিজের জন্য কিছু চাইত না। '৭৫ সালের ৩০ জুলাই আমি আর রেহানা বাংলাদেশ থেকে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হই। জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমাদের জন্য কী নিয়ে আসব। আমার ডায়েরিতে লিখে দিল অ্যাডিডাস বুট নিয়ে আসবে আমার খেলোয়াড়দের জন্য। নিজের জন্য কোনোদিন সে কিছু চাইত না। লেখাপড়া, খেলাধুলা, নাট্যচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। তার নাটক আমি নিজে দেখতে গেছি। তার উপস্থিত বক্তৃতা, ডিপার্টমেন্টে সুন্দর পরিবেশ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার প্রতিভা ছিল।'

শেখ কামালের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, 'আমরা পিঠাপিঠি ভাইবোন ছিলাম। একসঙ্গে ওঠাবসা, একসঙ্গে খেলাধুলা, চলাফেরা, ঝগড়াঝাঁটি সবই আমরা করতাম। একসঙ্গে সাইকেল চালাতাম। পুতুল খেলায় সে আমার সঙ্গে থাকত। আমিও ওর সঙ্গেই খেলতাম।'

১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমি যে সব এক দিনে এভাবে হারাব, এটা কখনোই চিন্তাও করতে পারিনি; কল্পনাও করতে পারিনি।'

১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের বিচার করতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'আপনারা একটা মৃত্যু হলে তার বিচার দাবি করেন আমার কাছে। আর আমি কিন্তু বিচার পাইনি। আমরা বিদেশে ছিলাম। আমরা দেশে ফিরতে পারিনি। আমাদের দেশে ফিরতে বাধা দিয়েছে। এরপর আমি যখন ফিরলাম, আমি মামলা করতে পারিনি। কারণ, মামলা করার কোনো অধিকার আমার ছিল না। আইন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২১ বছর পর সরকারে এসে মামলা করে সেই বিচার করি।'

পরে প্রধানমন্ত্রী 'শহীদ শেখ কামাল :আলোমুখী এক প্রাণ' শীর্ষক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি শহীদ শেখ কামালসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর