• বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২১ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২৩

বন্যা মোকাবেলায় গাইবান্ধায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

গত চারদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বন্যা এবং নদী ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সার্বিক প্রস্তুতি ও বন্যা মোকাবেলায় জনগনকে সচেতন করে তাদের জান-মাল নিরাপদে রাখতে রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় জরুরী সভা করেছে গাইবান্ধা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ আব্দুল্ল্যাহ হারুন বাবলু, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবির, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সরোয়ার কবীর, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি.এম সেলিম পারভেজ, জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সামাদ, জেলা মৎস্য অফিসার মো. গোলাম জিলানি, জেলা দূর্যোগ ও ত্রান কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলীসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসকারী বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি গ্রহন ও বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে জরুরী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২৭ সে.মি. এবং তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘাঘট, কাটাখালি, বাঙালী ও করোতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফলে দ্বিতীয় দফায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হয়েছে। সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বসতবাড়ি আবারও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

সভায় জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে জনগনের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গাইবান্ধা জেলার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী অবকাঠামো দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বন্যা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
গাইবান্ধা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর