• বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৮ ১৪২৭

  • || ০৫ সফর ১৪৪২

১৭

ফুলছড়িতে উদ্বোধনের অপেক্ষা পাবমারী সেতু

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার হতে গুনভরি সড়কের পাবমারী খালের ওপর সেতু নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। ডেপুটি স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর খুলে দেওয়া হবে সেতুটি। এতে করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষের।

২০১৬ সালের বন্যায় পাবমারী খালের দীর্ঘদিনের পুরাতন সেতুটি ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী, উড়িয়া, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তবে, অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। পাবমারী খালের ওপর নির্মিত সেতু এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই উপজেলার চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। 

ইতিমধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন পর জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেতুটি। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় খুশি এ পথে চলাচলকারী লোকজন। 

এলাকাবাসী জানান, পূর্বে যাওয়া ও আসায় আমাদের অনেক কষ্ট হতো। সেই সঙ্গে মালামাল আনার ক্ষেত্রেও অনেক কষ্ট হতো। এখন আর দুর্ভোগ থাকবে না। এদিকে ফুলছড়ি উপজেলা সদর থেকে গুনভরি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা জানান, বন্যার পর সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। যদি সংস্কার করা হয় তাহলে এখানকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।

এলজিইডি ফুলছড়ি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা রাশেদ খান ট্রেডার্স উপজেলা হেডকোয়ার্টার হতে গুনভরি সড়কে পাবমারী খালে ১১৪১ মিটার চেইনেজে ৩০ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ করেছে। এ সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয় এক কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৪ টাকা। সেতুটির নির্মাণের মেয়াদকাল ছিল ৮ মাস। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়েই কাজটি সম্পন্ন করেছে। 

উড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা গোলজার রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনেকে জানান, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় তারা আনন্দিত। দ্রুত সেতুটি উদ্বোধন করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে মানুষের অনেক উপকার হবে। মানুষ ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। 

ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ করেছে। ফুলছড়ি উপজেলা সদরের সাথে চারটি ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই সেতুটি। সেতুটির কারণে কৃষিজীবীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। দ্রুততম সময়ে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।
 
সেতু নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা রাশেদ খান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা টেন্ডারে অংশ নিয়ে আমি কাজটি পেয়েছি এবং কাজটি সুন্দরভাবে শেষ করেছি। কাজটির ৮ মাসের স্বল্প মেয়াদে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। সঠিক সময়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছি।
 
ফুলছড়ি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু বলেন, সেতুটি নির্মাণের ফলে অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। উপজেলার চার ইউনিয়নের জনসাধারণের আর্থ সামাজিক-উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে। এটি অত্যাধুনিক টেকনোলজির পিসি গার্ডার সেতু। সেতুটির মূল অবকাঠামোর শতভাগ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া সেতুটি উদ্বোধন করবেন। এর পরপরেই জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
গাইবান্ধা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর