• মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৫ ১৪২৭

  • || ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পেঁয়াজ-সবজিতে স্বস্তি, অপরিবর্তিত মাছ-মাংস

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের পেঁয়াজের ঝাঁজ। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে অর্ধেক। পেঁয়াজের পাশাপাশি স্বস্তি এসেছে সবজিতেও। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম। এছাড়া ডিম, ডাল, চাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের দামও রয়েছে অপরিবর্তিত।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কচুক্ষেত, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২২০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজেরও দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা কেজিতে।

আর বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০-১১০ টাকা। তবে গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো বাজারে পাতাসহ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাতাসহ পেঁয়াজের কেজি ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী পিন্টু বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে এখন নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এ কারণে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কম। ধারণা, সামনে পেঁয়াজের দাম আরো কমবে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে ২৫০ টাকা হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে দেশের নাগরিকরা। বেশিরভাগ ক্রেতাই ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনতেন। দাম কমায় এখন কিছুটা হলেও মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আগে যারা ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনতেন আজ তারা আধা কেজি, এক কেজি করে কিনছেন।

শেওড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, বাজারে এখন সব ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। পেঁয়াজের দাম কমেছে, কিছুদিনের মধ্যে আরো কমবে।

পেঁয়াজের দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এদিকে কচুক্ষেত এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ১০০ টাকা দিয়ে এখন এক কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এটি অকল্পনীয় ছিল। যাই হোক পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছি। তবে পেঁয়াজের দাম আরো কমা উচিত।

এদিকে গত সপ্তাহ থেকে ২০ টাকা কমে কেজিপ্রতি শিম (কালো) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম (সাদা) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে। আলু কেজিতে ১৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। 

এছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, জালিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

অপরদিকে সবজির সঙ্গে মাছের বাজারে মিলেছে স্বস্তির হাওয়া। এসব বাজারে প্রতি কেজি (এক কেজি আকারের) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। শিং ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। তবে পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়, আর লেয়ার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের মতোই গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা