• মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

১৭

পারস্পরিক আস্থা অটুট রাখার ঘোষণা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২০  

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ গতকাল বুধবার কক্সবাজার ছুটে যান। টেকনাফের যে পুলিশ চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হয়েছেন ওই এলাকা তারা পরিদর্শন করেন। এর আগে গতকাল সকালে সেনা ও পুলিশপ্রধান একই হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রওনা হন।

এরপর দুপুরে কক্সবাজারের সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস 'জলতরঙ্গ'তে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দুই বাহিনীর প্রধান। কক্সবাজারের ঘটনা দুই বাহিনীর পারস্পরিক আস্থায় ঘাটতি তৈরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও পুলিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ। তারা জোর দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় দুই বাহিনীর সম্পর্কেও কোনো চিড় ধরবে না।

দায়ী হিসেবে যে বা যারা চিহ্নিত হবে, তাদের শাস্তি হবে। এর দায় বাহিনীর ওপর পড়বে না। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকব। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যা কিছু প্রয়োজনীয় সে ব্যাপারেও উভয় বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া ঘটনাটি মাদকবিরোধী অভিযানেও কোনো প্রভাব ফেলবে না।সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা এখানে এসেছি। এই এলাকার সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবে আমি এবং পুলিশপ্রধান হিসেবে বেনজীর আহমেদ মতবিনিময় করেছি। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমাদের বক্তব্য হলো- এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাই। এই ঘটনা সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান কাউকে সহযোগিতা করবে না আবার কারও বিপক্ষেও যাবে না।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, মেজর (অব.) রাশেদ খানের মাকে ফোন করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার কথার ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আস্থা আছে। যে যৌথ তদন্ত দল গঠিত হয়েছে, তার ওপরও দুটি বাহিনী আস্থাশীল। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরবে না। তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে। জেনারেল আজিজ আহমেদ আরও বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। যে ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী মর্মাহত।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কেউ যেন সেনা-পুলিশ সম্পর্ক নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান জেনারেল আজিজ। তিনি আরও বলেন, বিগত ৫০ বছরে এই দেশে যে উন্নতি অগ্রগতি এসেছে, দেশি-বিদেশি যেসব ঝুঁকিগুলো এসেছে, আমরা সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ অন্যান্য সংস্থাগুলোর মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। করোনাযুদ্ধেও দুই বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, কনফিডেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন অনেক বছর ধরে তৈরি হয়েছে এটা অটুট থাকবে, এটাতে কোনো রকমের চিড় ধরে এমন কোনো কিছু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও হবে না। পুলিশ বাহিনী বলেছে- তাদের মধ্য থেকেও হবে না।

সেনাপ্রধান বলেন, এই ঘটনা নিয়ে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত কিংবা চিড় ধরানো বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করার কোনো প্রয়াস যাতে কেউ না চালায়, আমরা সেটা সবাইকে অনুরোধ করব। আমাদের সবার চেষ্টা করা উচিত, তদন্তটা যাতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়। ঘটনা যেহেতু তদন্তাধীন আছে, আমরা সেটা নিয়ে অন্য কোনো কথা বলব না।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমাদেরও একই কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের গত ৫০ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করার ইতিহাস রয়েছে। গত ৫০ বছরে দেশের অনেক ক্রাইসিস মুহূর্তে এই দুই বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। আমাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। আমরাও এটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি। এ ঘটনা পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো ব্যত্যয় সৃষ্টি করবে না। আমাদের লক্ষ্য হবে প্রভাবমুক্তভাবে পরিবেশে তদন্ত হবে। যারা যে পরামর্শ দেবেন সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশপ্রধান আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী ও সেনাবাহিনী অত্যন্ত দক্ষ, চৌকস একটি ফোর্স। এ ঘটনা নিয়ে অনেকে উস্কানিমূলক কথা বলার চেষ্টা করছেন। যারা উস্কানি দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের লক্ষ্য হলো ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করা আমাদের ঐতিহাসিক কর্তব্য। এ ঘটনার সুযোগ মাদক কারবারিরা নিতে পারবে না।

মেরিন ড্রাইভকে 'ক্রসফায়ার' আতঙ্কমুক্ত করা যায় কিনা এমন প্রশ্নে বেনজীর আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ১১ হাজার মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মারা গেছেন। আমাদের এখানে যারা এনজিওতে কাজ করেন, বিদেশ থেকে পয়সা আনেন, ঝকঝকে গাড়িতে চড়েন তারা অনেক কথা বলেন। তার মধ্যে একটা হলো ক্রসফায়ার। তবে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমরা চাই না। কোনো বাহিনী কোনো এলাকা বাছাই করে গোলাগুলি করে না।

বেনজীর আহমেদ বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন তারা কোনো উস্কানিতে পা দেবেন না। বাংলাদেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে আইনের শাসন আছে। সংবাদমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বিচার বিভাগ মুক্ত।

পরে তারা টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হন। দুই বাহিনী প্রধান টেকনাফের শামলাপুরে সিনহা মো. রাশেদ খান যেখানে নিহত হয়েছেন সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর