• মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ‘করোনা’ ও ‘ধর্ষণ’

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

চলতি বছরের শুরু থেকেই ‘মহামারী করোনা’ এবং বছরের শেষাংশে এসে বহুল আলোচিত ‘ধর্ষণ’ ইস্যু সব মহলেই আলোচনায় স্থান পেয়েছে। এই দু’টি ইস্যু নিয়ে শুধু জনগণের মধ্যেই ৯ শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করতে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে করোনা ও ধর্ষণ। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনাও তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই করোনা মহামারী শুধু দেশে নয় বিশ^ব্যাপীই আঘাত হানে। ২০২০ সালের পুরো বছরটিই কাটছে অজানা এক আতঙ্কে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে বলতে গেলে হারিয়ে গেছে একটি শিক্ষাবর্ষ। এরপর বছরের শেষ ভাগে এসে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ধর্ষণের মহোৎসব। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরাই বেশির ভাগ আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় পাঠ্যপুস্তকে করোনা এবং ধর্ষণ ইস্যু দু’টিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সম্পর্কে আরো বেশি জানতে এবং এই রোগ সম্পর্কে আরো বেশি সচেতনতা বাড়াতেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ‘করোনা’ ও ধর্ষণ। সারা বিশ^ যেখানে অদৃশ্য এই করোনাতে কাবু সেই প্রেক্ষাপটে আগামীতে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ‘করোনা’। তবে ‘করোনা’র এই বিষয়টি যেহেতু শুধু আঞ্চলিক কোনো বিষয় নয়, তাই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও আনুসঙ্গিক নানা দিক বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হবে এটি। এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী ২০২১ সালের শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচিতে করোনাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও পরের শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে করোনাভাইরাস নামে পৃথক একটি অধ্যায় শিক্ষার্থীদের সিলেবাসের মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এ দিকে দেশে যখন ব্যাপকভাবে ধর্ষণ বেড়ে গেছে তখন শিক্ষামন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই ধর্ষণ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক কারিকুলামে এ সংক্রান্ত সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ‘রুম টু রিড’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় মন্ত্রী এমন কথা জানান। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মানুষ গড়তে শিক্ষা হচ্ছে বড় হাতিয়ার। শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আমরা সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, বর্তমানে নারী ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেককে মিলে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হবে। এর জন্য সমাজে সতেচনতা সৃষ্টি করতে হবে। নারীর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, নারীর মর্যাদা, ধর্ষণের কুফল ও এ সম্পর্কিত বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্য দিকে এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, করোনা এখন একটি বৈশি^ক মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। সারাবিশ^ই এখন অদৃশ্য এই করোনার কাছে ধরাশায়ী। তাই করোনার বিষয়ে আরো বেশি জানতে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পাঠ্যসূচিতেই আলাদা একটি অধ্যায় যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এখনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। বিষয়টি যেহেতু নতুন, তাই এ নিয়ে আরো গবেষণা বা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া করোনা এই বিষয়টিকে কোন শ্রেণীতে বা একাধিক শ্রেণীর সিলেবাসেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা সেটি নিয়ে বিশ্লেষণ করার দরকার আছে। আর এজন্য প্রয়োজনে আরো কিছু দিন সময় নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যসূচিতে করোনা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা নয়া দিগন্তকে জানান, সময়ের প্রয়োজনে এবং বাস্তবতার আলোকে আমরা নতুন যেকোনো বিষয়কে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও বিভাগ অনুযায়ী সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করি। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করা হয়। করোনা একটি বৈশ^য়িক সমস্যা। করোনা সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। করোনাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে আমরা দেখবো আন্তর্জাতিকভাবে এটিকে কিভাবে অন্যান্য দেশ তাদের পাঠ্যসূচিতে নিতে চায়। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে নতুন কোনো বিষয় সংযুক্ত করার আগে আমরা দেখব তারা আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড থেকে দূরে সরে গেলো কিনা । তাই আমরা দেখব অন্যান্য দেশের পাঠ্যসূচিতে কিভাবে এই বিষয়টিকে উপস্থাপন করে। সেই আলোকে আমরাও সিদ্ধান্ত নেবো।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা