• শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৫ ১৪২৭

  • || ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পাঁচ শর্তে ৫০০ টন সুগন্ধী চাল রপ্তানির অনুমতি

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২০  

করোনা সংকটের মাঝেও বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদের পর ৫টি শর্ত দিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। গত ৯ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুমতি সংবলিত একটি চিঠি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরে পাঠানো হয়।

উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী রপ্তানি নীতি ২০১৮-২০২১ অনুসরণ করে এই চাল রপ্তানি করতে হবে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটিকে। এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্য চাল ট্রান্সপারেন্ট প্যাকেটে সরবরাহ করতে হবে, শুল্ক কর্তৃপক্ষ দ্বারা রপ্তানিকৃত পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করাতে হবে, রপ্তানি শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখায় জমা দিতে হবে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত  চাল রপ্তানি সম্পন্ন করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী অনুমোদন সাপেক্ষে ২৫ ধরনের সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আগ্রহপত্র বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেস টু কেস ভিত্তিতে এই অনুমতি দিয়ে থাকে।

তবে মোটা কিংবা সরু অন্য কোনো চাল রপ্তানির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা সংকটের মাঝে গত এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই রপ্তানি সেই প্রক্রিয়ার অংশ। কর্মকর্তারা জানান, আরব বিশ্বে বিরানির জন্য সুগন্ধি চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রতি কেজি চাল সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। মূলত ভারত ও পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের চালের এই চাহিদা পূরণ করে থাকে। তবে সম্ভাবনাময় সুগন্ধি চালের সেই বাজারটি এখন ধরতে চাইছে বাংলাদেশ। আর এ লক্ষ্যে করোনা সংকটের মাঝেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সুগন্ধি চালের ব্র্যান্ডিং শুরু করে সরকার। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসগুলোতে উপহারস্বরূপ পাঠানো হয় বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল।

গত ১ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ব্রি-৫০ (বাংলামতি) চালসহ কৃষিপণ্য উপহার পাঠায় সরকার। এর আগে বাংলাদেশি সুগন্ধি চালের রপ্তানি বাড়াতে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে উপহারস্বরূপ  দেওয়ার জন্য ‘ব্রি ধান ৩৪ ও ৫০’ এই দুই জাতের চালের কিছু নমুনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

খাদ্যনীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে উৎপাদিত চালের মাত্র ৮ শতাংশ (সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ টন) আন্তর্জাতিক বাজাওে বেচাকেনা হয়। বৈশ্বিক চালের বাজারে সবচেয়ে বড় বিক্রেতা ভারত। এককভাবে  দেশটি প্রায় ৩৪ শতাংশ চাল রপ্তানি করে।

এরপর থাইল্যান্ড প্রায় ২৮ শতাংশ, ভিয়েতনাম ১৯ শতাংশ, পাকিস্তান ১১ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ শতাংশ চাল রপ্তানি করে। বিশ্ববাজারে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ চালই আতপ ও আঠাযুক্ত। বাংলাদেশে উৎপাদিত চালের ৯৫ শতাংশ সেদ্ধ শক্ত চাল। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চালের চাহিদা কম। ফলে দেশ থেকে মূলত সুগন্ধি চাল কিছু পরিমাণ রপ্তানি হয় থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে শুরু করে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে ৬৮ হাজার ৫০ টনের মতো। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন-মে সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ৬২ টন। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৮ হাজার ২১০ টন। তবে সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। ওই বছর রপ্তানি হওয়া সুগন্ধি চালের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৬৬৩ টন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা