• সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ২৮ ১৪২৭

  • || ২৯ শা'বান ১৪৪২

নেপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি এ বছরেই

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২১  

ভারতের মাধ্যমে নেপাল থেকে বছরে যে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির কথা ছিল তা চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারির ঢাকা সফরে এ সংক্রান্ত চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বানশিধর মিশ্র জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরে জলবিদ্যুৎ রফতানির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। শনিবার (৬ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ কথা জানান তিনি। এদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি, খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও জানিয়েছেন নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া শেষ।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদনের পরও সেচ, গ্রীষ্ম মৌসুম ও ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানো, ক্লিন এনার্জির সেবা বাড়ানো সর্বোপরি উৎপাদন খরচ কমাতে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে গুরুত্ব দিয়েছি সরকার। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আলোচনা দীর্ঘদিনের। কিন্তু দেশটি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনছে না বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, নেপালের কার্নালি নদীর উজানে রফতানির উদ্দেশ্যে ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে ভারতীয় কোম্পানি জিএমআর গ্রুপ। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা ক্যাপাসিটিতে প্রতি কিলোওয়াট ৬ টাকা ৪২ পয়সা দরে সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভাইপার নিগম (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে বিষয়টি দ্রুত এগোয়নি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বানশীধর মিশ্র সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যোগ দিতে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারির ঢাকা সফরে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নেপাল এখন প্রস্তুত। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ চাইলে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপাল থেকে নিতে পারবে। নেপাল এটি উৎপাদনে সক্ষম। এর ফলে পরিবেশ দূষণ কিংবা কার্বন নিঃসরণকারী উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে।’

নেপাল সরকারের পলিসি অনুযায়ী, দেশটিতে চাহিদা পূরণের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে তা বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিক্রি করতে পারবে দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম হলেও এই দুটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ কিনতেও পারবে নেপাল।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। কাপ্তাইয়ের বাইরে আমাদের হাইড্রো পোটেনশিয়ালের সুযোগ নেই। সারাবিশ্বে যখন কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে চিন্তায়, ক্লিন এনার্জি কীভাবে প্রমোট করা যায় সেই লক্ষ্যে নেপালে ভারতের জিএমআর কোম্পানি একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ওখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমার বিশ্বাস, যেকোনো সময় উচ্চ পর্যায়ের উপস্থিতিতে চুক্তিটি সই হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে। এবার ভাবছি সাড়ে ১৪ হাজার হবে। আমাদের চাহিদা এখনো ১১ হাজারে আসেনি। ১৪ হাজারের চাহিদা থাকে মে-জুনের প্রচণ্ড গরম এবং সেচ ও রমজানের সময়। তিন মাসের জন্য চাহিদা হবে ১৪ হাজার। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা এবং দুই মাসের জন্য তিন হাজার মেগাওয়াট মানে হলো তিন বিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করতে হবে। যদি নেপাল থেকে আনা যায় তবে ব্যয় আরও কম হবে।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও কয়েকদিন আগে এক আলোচনায় জানিয়েছেন, নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে যে আন্তঃদেশীয় সংযোগের প্রয়োজন হবে, সে গ্রিড পরবর্তীতে আঞ্চলিক পাওয়ার শেয়ারিং নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ১৪৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা