• শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭

  • || ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ৪৬১ কোটি টাকার ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২০  

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ‘রূপকল্প ৯ : ২ডি সিসমিক প্রকল্প’ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগসহ ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন একটি কাজের ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির একটি সংশোধিত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ্থ মোস্তফা কামাল এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘রূপকল্প ৯ : ২ডি সিসমিক প্রকল্প’ বাস্তবায়নে প্রকল্পের সাতটি লটের কাজে পৃথক পৃথক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। লট ভিত্তিক এ কাজগুলো পেয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
জানা যায়, সাতটি লটের মধ্যে লট-১ ও লট-৩-এর কাজটির জন্য মনোনীত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘আরপিএস এনার্জি পিটিওয়াই লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে যথাক্রমে ২৬ লাখ টাকা ও ২৭ লাখ টাকা।
লট-২ ও লট-৪-এর কাজটির জন্য মনোনীত হয়েছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ‘সিজিজি সার্ভিসেস এসএএস’। এতে ব্যয় হবে যথাক্রমে এক কোটি এক লাখ টাকা ও চার কোটি পাঁচ লাখ টাকা। লট-৫, লট-৬ ও লট-৭-এর কাজটির জন্য মনোনীত হয়েছে পানামার প্রতিষ্ঠান ‘স্কালম বার্জার সিয়াকো ইঙ্ক, পানামা’। এতে ব্যয় হবে যথাক্রমে ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ৪২ লাখ টাকা ও এক কোটি ২৫ লাখ টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘রূপকল্প ৯ : ২ডি সিসমিক প্রকল্প’-এর আওতায় অনুসন্ধান ব্লক নং ৮, ১০ ও ১১-এর অন্তর্গত কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার লাইন ২ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।
অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে কাতার ও সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন করে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং ‘কাফকো’ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের পৃথক তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাতারের ‘মুনতাজাত’ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সৌদি আরবের ‘সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন’ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর ‘কাফকো’ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ৬২ কোটি ১১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এসব সার ক্রয় করবে।
অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘কক্সবাজার জেলার একতাবাজার থেকে বানৌজ শেখ হাসিনা ঘাঁটি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের দু’টি প্যাকেজের কাজে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০১-এর পূর্ত কাজ সম্পাদন করবে যৌথভাবে ‘মেসার্স জামিল ইকবাল’, ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ ও ‘রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড’। পূর্ত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১.৯১ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, ০.৪ কিলোমিটার বাঁক সরলীকরণ, ৬.৫৪ কিলোমিটার পেভমেন্ট শক্তিশালী ও প্রশস্তকরণ, ৫.৭৬ কিলোমিটার পেভমেন্ট শক্তিশালী, প্রশস্ত ও উঁচুকরণ, ০.৭০ কিলোমিটার রিজিভ পেভমেন্ট, আরসিসি বক্স কালভার্ট চারটি, ইন্টারসেকশন তিনটি, আরসিসি সসার ড্রেন ইত্যাদি নির্মাণ। এতে ব্যয় হবে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
অন্য দিকে প্রকল্পের প্যাকেজ নং- ডব্লিউপি-০২-এর পূর্ত কাজ সম্পাদন করবে যৌথভাবে ‘মেসার্স জামিল ইকবাল’, ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ ও ‘হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড’। পূর্ত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১.৯৩ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, ৩.৫ কিলোমিটার নতুন পেভমেন্ট, ০.৪ কিলোমিটার বাঁক সরলীকরণ, ৫.৪০ কিলোমিটার পেভমেন্ট শক্তিশালী ও প্রশস্তকরণ, ০.৩ কিলোমিটার রিজিভ পেভমেন্ট, আরসিসি বক্স কালভার্ট পাঁচটি, আরসিসি ড্রেনেজ স্লুইস গেট দু’টি, ইন্টারসেকশন একটি, আরসিসি সসার ড্রেন, সাইন-সিগন্যাল, গাইড পোস্ট, রোড মার্কিং ইত্যাদি নির্মাণ। এতে ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব জানান, এ ছাড়া বৈঠকে ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক সেবা খাতে ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড’। মূল চুক্তিতে পরামর্শক সেবা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এটি এখন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা