• বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭

  • || ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপান্তরে এগিয়ে যাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২০  

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের হাতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আরো সমৃদ্ধ হতে পারে দেশের শিক্ষা কাঠামো। দেশের শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, পলিসি মেকার ও উন্নয়নকর্মীদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক অনলাইনে আয়োজিত এক ব্রেইনস্টর্মিং অধিবেশনে এমন মন্তব্য করেন আলোচকরা।

করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট শিক্ষাব্যবস্থার সংকট থেকে উত্তরণ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ, ব্যবহার ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাখাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে এটুআই এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, চলমান অনলাইন ক্লাসগুলো বিশেষায়িত অ্যাপসের মাধ্যমে আরো বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব করে তৈরি করা এবং অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র আমূল বদলে যাবে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার শুরু থেকেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও সরকারের উদ্যোগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনলাইনে অব্যাহত রয়েছে শিক্ষাকার্যক্রম।

এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে অধিবেশনের গ্রুপ প্রেজেন্টেশন পর্বে অংশ নেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) ড. নাসিমা রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহসিন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এবং প্ল্যান ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধান মুরশিদ আক্তার।  

অধিবেশনে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিটি স্পেশালিস্ট (ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া) সুচি কেদিয়া। বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা কাঠামো বিশেষত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় কীভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটানো যায়, এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

এছাড়াও অধিবেশনে দেশের শিক্ষা কাঠামোর উপর ভিত্তি করে পাঁচটি ব্রেকআউট পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের তিনটি সর্বোৎকৃষ্ট প্রায়োগিক উপায় মহামারিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু আলোচনায় আসেনি এমন তিনটি বিষয় ও বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এটুআই-এর এডুকেশন টেকনোলজি এক্সপার্ট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এটুআই-এর পলিসি স্পেশালিস্ট (স্কিলস ফর এমপ্লয়িমেন্ট) আসাদ-ইজ-জামান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষকমণ্ডলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এটুআই-এর পলিসি স্পেশালিস্ট (এডুকেশনাল ইনোভেশন) মো. আফজাল হোসেন সারওয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা