• শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৯ ১৪২৭

  • || ০৭ সফর ১৪৪২

৪৭

জেনে নিন পিতা-মাতাকে নিয়ে কোরআন হাদিসের নির্দেশ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন। তারা দুনিয়াতে আপনার আমার সবচেয়ে বড় আপনজন এবং অমূল্য সম্পদ। পিতা-মাতার খেদমত করতে পারা বড়ই সৌভাগ্যের বিষয়।

মেরাজ রজনীতে যে ১৪টি বিষয় স্থির হয়, তার প্রথমটি হলো আল্লাহর হক তাওহিদ বা একত্ববাদ এবং শির্ক তথা অংশীবাদিতা থেকে মুক্তি। দ্বিতীয়টি হলো পিতা-মাতার হক বা অধিকার এবং সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং করণীয় ও পালনীয়।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব-ব্যবহারের ব্যাপারে বলেন, 

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا
‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বলো তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।’

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
‘তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো, ‘হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’ (সূরা: বনী ইসরাঈল; মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত: ২৩-২৪)।

আরো বলা হয়েছে, 

وَاعْبُدُواْ اللّهَ وَلاَ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا

‘আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরিক করো না তাঁর সঙ্গে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সঙ্গে সৎ ও সদয় ব্যবহার করো এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। (সূরা- নিসা; মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত: ৩৬)।

পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব-ব্যবহারের ব্যাপারে কী বলেছে আর আমরা কী করছি: 

আমাদের দেশে প্রায় সব ছেলের বাসায় তার মায়ের স্থান না হলেও স্ত্রীর মা কিন্তু ছেলের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হতে দেখা যায়। এর কারণ একটাই; কোনো বৌমা তার শাশুড়িকে আপন করে নেয় না, বরং এমন ব্যবহার করে যাতে ছেলেও মায়ের ওপর বিরক্ত হয় আর নিজ স্ত্রীকে খুশি ও পরিবারের শান্তির জন্য মাকে নিম্ন মানের জীবন যাপনে বাধ্য করে। অথচ সব সম্পদ ও সন্মান প্রদানে তার মায়ের ভূমিকা ছিল সব থেকে বেশি।

আজকালকের ছেলেরা মনে করে তাদের মায়েরা সেকেলে, খাওয়া দাওয়া, পোশাক পরিচ্ছদ এত দামি হবার কি দিরকার? ছেলে বৌমা,মেয়ে ও নাতিরা প্রায়ই বাইরের হোটেলে গিয়ে অনেক সুস্বাদু দামি-দামি খাবার খেয়ে আসে, আর মায়ের জন্য রেখে যায় বাসি খাবার, (বুড়া মানুষ,অল্প খাবার হলেইতো চলে)। কখনও  ভাবে না যে ঐ বৃদ্ধ বাবা-মারও খেতে ইচ্ছে করে।

একটি ঘটনা বলি:

রহিমা নামের এক দরিদ্র বিধবা, কম খেয়ে, কম পরে, বহু কষ্ট করে ছেলেকে ডাক্তারি পাশ করিয়েছে। ছেলে আর এক ডাক্তার মেয়েকে বিয়ে করে এখন ফ্লাট বাসা ভাড়া নিয়েছে, ছেলে খুব সখ করে মাকে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে নিয়ে এসেছে। অফিস থেকে ছেলে ফোন দিল, মা, আমাদের ফিরতে দেরি হবে, তুমি খেয়ে নিও, আমরা বাইরে থেকে খেয়ে আসবো। মা ভাবলো, একা মানুষ, দুপুরের ডাল আর ভাত ফ্রিজে আছে, একটা কাচামরিচ দিয়ে খেয়ে নেব। খোকার পড়াশোনার খরচ জোগাতে কত রাতেতো খাবারই জোগাড় হয়নি। এরকম অভ্যাস তার আছে। যা হোক, ডাল ভাত মরিচ দিয়ে খেয়ে শুয়ে পড়েছে অভাগা ‘মা’, রাত ১২ টার দিকে ছেলে বউ ফিরে একটা প্যাকেট হাতে দিয়ে বললো তুমি খেয়েছো? মা বললো হ্যা। তাহলে এটা ফ্রিজে রেখে দাও, সকালে গরম করে দিও, আমরা সকালে এটা খেয়েই অফিসে চলে যাব। প্যাকেটটা ফ্রিজে রাখার সময় খাবারের মৌ মৌ সুগন্ধটি মায়ের খুব ভালো লাগলো। ভাবলো কাল সকালে ছেলেকে বলবে যে, আমার জন্যও এই খাবার একদিন নিয়ে আসবি খোকা! আমিতো কখনো খাইনি, আমারও খুব খেতে মন চায়!

সকালে মা এই খাবার গরম করতে যেয়ে এত সুগন্ধ পেল যে প্যাকেটের গায়ে লেগে থাকার সামান্য একটু খাবার জিহবায় ছোয়াতেই কি যে মজার স্বাদ লাগলো!! ছেলেকে বলই ফেললো, ‘এটা কি খাবার ছিল’? 
‘চাইনিজ’। মা সরল মনে বললো, ‘আমার জন্য এক প্যাকেট আনবি? খুব সুগন্ধ!’
বৌমা পাশ থেকে বলে উঠলো, ‘মা এ খাবার বয়ষ্কদের জন্য নয়’। 
মা: ‘কিন্তু আমিতো কোনো বয়সেই এই খাবার দেখিওনি’। 
বৌমা: বিশ্বের কত খাবার আছে আমরাও কি তা দেখেছি! আপনাকে যেসব দেখতে হবে তার কি কোনো মানে আছে!
এর পরের সপ্তাহেই ছেলের শ্বশুর শাশুড়ি এলো এবং তাদের নিয়ে ছেলে চাইনিজও খেয়ে এলো, মায়ের কাপড় চোপড় ভালো নেই এই কথা বলে বৌমা এড়িয়ে গেল। আর সেই ভেড়া মার্কা ছেলে পরিবারের শান্তির কথা ভেবে মাকে মরিচ ডাল ভাত খেতে রেখে গেলো। কাপড় ভালো নেই, এ দোষ কি ওই মায়ের!

এরকম উদাহরণ আমাদের দেশের প্রায় প্রতি ঘরেই আছে। আজকাল, ছেলে মেয়ে বাইরে বন্ধুদের নিয়ে হোটেলে অনেক রকম দামি দামি খাবার খাচ্ছে, আর বাবামা বাসায় বসে সব্জী ডাল খাচ্ছে। বাইরের খাবারে যদি অসুখ বাড়েও কিন্তু তার জন্য কি ওষুধ নেই? আমি আমাদের দেশের সব ছেলে-মেয়েকে অনুরোধ করবো, প্লিজ তোমরা কখনো যদি বাইরে ভালো কোনো খাবার খাও, তোমাদের মা-বাবা, দাদু দিদার জন্যও কিছু নিয়ে এসো, তাদেরও সুগন্ধযুক্ত খাবার খেতে খুবই ইচ্ছে করে, তারা তা বলে না, কারণ তোমাদের কাছে এমন কঠিন তীর্যকপূর্ণ উত্তর প্রস্তুত আছে যা তাদেরকে খাবারের প্রতি নিরুৎসাহিত করে দেয়। (আমি নানা-নানির কথা বলিনি, কেননা ওটা তোমাদের মা সামলাবেই)।

আমি আর এক মাকে দেখেছি যে তার দুই হাফেজ ছেলেকে (মাওলানা পড়ছে) বলছে বুয়া আসেনি, আমার শরীর ভালো না, ভাত আলু ভর্তা করে খেয়ে নাও। হাফেজ দুজন দ্রুত থালা বাসুন সব মেজে, ঘরের ফ্লোর মুছে রান্না বসিয়ে দিয়েছে, আর এক ইঞ্জিনিয়ার পড়ুয়া ছেলেকে জ্বরে আক্রান্ত মা খাবার দিতে সামান্য একটু দেরি হওয়ায় খাবার প্লেট ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, মা ভয়ে দ্রুত ফ্লোর পরিষ্কারে ব্যস্ত হয়েছে। একজন দ্বীনদার ছেলে মাকে ভয় পায়, আর ইংরেজি পড়ুয়া ছেলেকে মা বাবা ভয় পায়।

আল্লাহ বলেন, ‘তুমি আমার কাছে কৃতজ্ঞ হও এবং তোমার মাতা-পিতার কাছেও কৃতজ্ঞ হও।’ 

আমি মানুষকে নিজেদের পিতা-মাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। (আল-আনকবূত-৮)।

মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারন করেছে, অসহনীয় যন্ত্রণার পর সন্তানকে জন্ম দিয়েছ ও দিবারাত্র অক্লান্তভাবে পরিশ্রম করে রোগে সেবা ও দুধ পান করিয়েছে। তার বিষয়ে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমার কাছেই তোমাকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা: লোকমান -১৪)।

যে লোক মায়ের কাছে অবস্থান করে তার নির্দেশ মতো চলে, সে তরবারী নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। মায়ের দিকে ভক্তি সহকারে তাকানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর নেই (হাদিস)।

রাসূল (সা.) বলেন, মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মাতা-পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিযী)।

তারা যখন সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন তাদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা, তাদেরকে যেন বোঝা মনে করা না হয়। পারিবারিক জীবনে আগে মা-বাবাকে অগ্রাধিকার দেয়া কেননা যে বউ আজ তোমার জীবন সঙ্গী, আজ তোমার পরিচালনার ভুলে তোমার বউ এর দ্বারা তুমি তোমার বেহশতের আশ্রয় মা-বাবাকেই কষ্ট দিচ্ছো।

হাদিসে মা-বাবার খেদমতকে জিহাদের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘উহ! করার চেয়েও যদি কম কষ্টদায়ক শব্দ থাকতো, তবে আল্লাহ পাক তাও করতে নিষেধ করতেন। সুতরাং পিতা-মাতার অবাধ্যচারী যতই ভালো কাজ করুক না কেন, জান্নাতে যেতে পারবেনা, আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচারণকারী যাই করুক না কেন, জাহান্নামে যাবে না। বাবা-মায়ের জন্য আল্লাহ কাছে প্রার্থনায় কি কথা বলতে হবে তাও শিখিয়েছেন, ‘রাব্বির্ হামহুমা কামা রাব্বা ইয়া-নিই ছাগিরা।’

রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহপাক সব গুনাহের শাস্তি যত দিন ইচ্ছা বিলম্বে করেন, এমনকি তা কেয়ামত পযর্ন্ত বিলম্বিত করেন. কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে অবাধ্যতার শাস্তি মৃত্যুর পূর্বেই করে থাকেন। অর্থাৎ কেয়ামতের আগেই দুনিয়ার জীবনেই তার শাস্তি শুরু হয়ে যায়। (হাকেম)।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে লোক পিতা-মাতার অবাধ্য কিংবা তাদের সঙ্গে অসৎ ব্যবহার করে, তাকে দ্রুত শাস্তি দেয়ার জন্য আল্লাহ তার হায়াত কমিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি পিতা-মাতার বাধ্য, আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দেন, যেন সে বেশি বেশি ভালো কাজ করে অধিক সওয়াব ও মঙ্গল লাভ করতে পারে। (ইবনে মাজা)।

এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর কাছে এসে নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা আমার সম্পদ বিনষ্ট করে দিতে চান। তিনি বললেন: ‘তুমি ও তোমার ধন-সম্পদ’, তোমার মাতা-পিতার জন্য। অর্থাৎ সন্তানের সম্পদ ও আয়ে পিতা-মাতার হক আছে। তারা যদি সন্তানের অর্থ কোথাও ব্যয় করেন তার জন্য পিতার-মাতার কাছে কৈফিয়াত চাওয়া বা বকাবকি করা উচিত নয়।

বাসূল (সা.) বলেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। (ইবনে মাজা, নাসায়ী)।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘চার শ্রেণির লোককে আল্লাহ বেহেশতে প্রবেশ করতে দেবেন না, (১) মদখোর (২) সুদখোর (৩) ইয়াতীমের মাল আত্মসাতকারী (৪) পিতা-মাতার অবাধ্যচারী।

আল্লাহ পাক হজরত মুসা (আ.)-কে ওহীর মাধ্যমে জানালেন, পিতা-মাতাকে সম্মান কর। কেননা যে ব্যক্তি মাতা-পিতাকে সম্মান করে, আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দেন, তাকে এমন সন্তান দান করেন যে তাকে সম্মান করে। আর যে পিতা-মাতাকে অসম্মান করে, তার হায়াত কমিয়ে দেন,ও তাকে অবাধ্য সন্তান দান করেন।

আজকাল সন্তানেরা নিজের সুখের জন্য বৌকে খুশি করতে মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, বৌকে বসিয়ে রেখে মাকে দিয়ে কাজ করায় সেই সব সন্তানেরা কতই না কপাল পোড়া। বৌ এর কথায় মাকে অবিশ্বাস করে, মাকে মায়ের খেদমতে নিজেকে এবং নিজের বৌকে নিয়োজিত করতে পারলো না বরং শাশুড়ির সেবা নিয়ে ব্যস্ত হল, তারাই তো প্রকৃতপক্ষে দুর্ভাগা।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে পিতা-মাতার জন্য বিশেষভাবে যা বলা হয়েছে তা হলো:

১. বিরক্তি সূচক কিছু (উফ ) বলো না এবং ধমক দিও না,
২. সম্মান সূচক নম্র কথা বলো,
৩.বিনয়াবনত থেকো,
৪. দোয়া কর, 
৫. কৃতজ্ঞতা আদায় করো,

সব শেষে শুধু এটুকু বলবো, মা-বাবাকে যত্ন করার নিয়ত/ইচ্ছা যদি আপনার থাকে, তবে এখনই উপযুক্ত সময়। আল্লাহ! আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুন। আমিন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা