• শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭

  • || ১৪ রজব ১৪৪২

ছাত্রদল থেকে হুজিতে যোগ দেন জঙ্গি ইকবাল

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

প্রায় ১৭ বছর আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল হোসেন ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে হরকাতুল জিহাদ- হুজি নেতা মুফতি হান্নানের সঙ্গে দেখা করে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আর মুফতি হান্নানের নির্দেশেই তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। হামলার সময় ইকবাল মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

র‌্যাবের ডিজি জানান, ইকবাল ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে হুজিতে যোগ দেয়। পরবর্তীতে হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে জড়িত হন। হামলার দিন মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল গ্রেপ্তার ইকবাল। হামলার পর আত্মগোপনে চলে যান সেদিনের হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এই জঙ্গি।

গ্রেপ্তার ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গি ইকবাল এইচএসসি পাস। স্কুল ও কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে সে জানায়। জঙ্গি ইকবাল ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল। সে ১৯৯৫ হতে ১৯৯৮ পর্যন্ত মালয়শিয়ায় প্রবাসী কর্মজীবী হিসাবে অবস্থান করে। দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। এসময় সে, সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। সে ঝিনাইদহের স্থানীয় এক জঙ্গি সদস্যদের মাধ্যমে সে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)তে যোগদান করে।

মুফতি হান্নানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল ইকবালের জানিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, ইকবাল ২০০৩ সালে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে চলে আসে। জঙ্গি প্রশিক্ষণও নেয়। ২০০8 সালে আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় চলে আসে ইকবাল। আশ্রয় নেয় গোপন আস্তানায়। সেখানে হুজির নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য সমমানদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। সে মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দলীয় গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করতো।

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে র‌্যাবকে গ্রেপ্তার ইকবাল জানায়, মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। মুফতি হান্নান হামলা পরিচালনার জন্য তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। হামলা চলাকালীন সে মঞ্চকে লক্ষ্য করে নিজে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গমন করে এবং সেখানে আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে।

ঘটনার পর র‌্যাব জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে এবং পরবর্তীতে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় আত্মগোপনে থাকাকালীন সে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশা মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল বলে জানায়। ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে দুর্ধর্ষ এই জঙ্গি।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা