শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও সুন্দরগঞ্জের শহিদের ভর্তি

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০১৯  

শৈশব থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছেন। সাফল্যও এসেছে। সুযোগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শহিদ মিয়ার আশৈশব ইচ্ছা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে অর্থাভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং পরের কয়েক বছর পড়ার খরচ জোগানোই এখন তাঁর মূল চিন্তা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর (ছাতিনামারী) গ্রামে বেড়ে ওঠেন শহিদ। বাবা ছবিয়াল মিয়া রিক্সাভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ষাটোর্ধ্ব ছবিয়াল এখন তা-ও পারছেন না।

মা ছকিনা বেগম গৃহস্থালির কাজ করেন। ছবিয়াল অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন। পরিবারের এই অবস্থায় গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়িয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতেন শহিদ মিয়া। এভাবে সংগ্রাম করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় হয়েছেন ৮৭৩তম। কিন্তু অর্থাভাবে ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন এই মেধাবী।

দুই বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে শহিদ সবার ছোট। বড় বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। শহিদ কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ধুবনী কঞ্চিবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি বলেন, কলেজে পড়া অবস্থায় শিক্ষকেরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বই কিনতে না পারায় শিক্ষকেরা ও কলেজের সহপাঠীরা বই দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

শহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পরমুহূর্তে মনে দুশ্চিন্তা ভর করেছে—ভর্তির খরচ আর পরবর্তী সময়ে পড়ালেখার খরচ কীভাবে চলবে।

শহিদের বাবা ছবিয়াল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বড় ইচ্ছা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সে চান্সও পাইছে। শুনলাম, ওইখানে ভর্তি হইতে নাকি অনেক টাকা লাগে। সংসারের খরচই চলে না। ছেলেকে ভর্তি করাই ক্যামনে?’ দরিদ্র এই পিতা সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
এই বিভাগের আরো খবর