• শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৭

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘরের মাঠে ৫ গোল হজম করল ম্যান সিটি

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের আশানুরূপ খেলতে না পারায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা চলে গেছে লিভারপুলের ঘরে। সেই শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নতুন মৌসুমের শুরুটা ইতিবাচকভাবেই করেছিল সিটিজেনরা। প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়েই ফিরেছিল তারা।

কিন্তু নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবার খেলতে নেমেই যেন তালগোল পাকিয়ে ফেল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। তাও যেনতেনভাবে নয়, রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে সিটিজেনরা। ম্যান সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামেই তাদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছে লিস্টার সিটি।

প্রথম ম্যাচে ওলভসের মাঠে ৩-১ গোলে জেতার ম্যান সিটি, নিজেদের ঘরের মাঠে খেলা ম্যাচে লিস্টার সিটির বিপক্ষে হেরেছে ২-৫ গোলের বড় ব্যবধানে। তারা তিনটি গোলই হজম করেছে পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েও এমন বিব্রতকর হার এড়াতে পারেনি ম্যান সিটি।

ম্যাচের সকল পরিসংখ্যান ছিলো স্বাগতিক ক্লাবটির পক্ষেই। পুরো ম্যাচের ৭২ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল ম্যান সিটি। অন্তত ১৬ বার আক্রমণে উঠে ৫টি শট লক্ষ্য বরাবরও রেখেছিল তারা। কিন্তু পারেননি লিস্টারকে হারাতে। পুরো ম্যাচে সাতবার আক্রমণে উঠে প্রতিবার লক্ষ্য বরাবর শট নিয়েছে লিস্টার, যার ৫টি পরিণত হয়েছে গোলে।

নিজের প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে ৬৮৬ ম্যাচ দায়িত্ব পালন করে এবারই প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে নিজ দলকে পাঁচ গোল হজম করতে দেখলেন ম্যান সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। এছাড়া নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে ৪৩৮ ম্যাচ পর কোনো ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করলো ম্যানচেস্টার সিটি।

অথচ রোববারের ম্যাচটিতে মাত্র চতুর্থ মিনিটেই প্রথম গোল করেছিলেন ম্যান সিটির ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ। ম্যাচের শুরুর দিকেই পাওয়া কর্নারে দারুণ সুযোগ তৈরি করে দেন কেভিন ডি ব্রুইন। যা ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেনি লিস্টারের রক্ষণের খেলোয়াড়রা। ডি-বক্সের ভেতর থেকেই জোরালো শটে জাল কাঁপান মাহরেজ।

এই এক গোলের সুখস্মৃতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ম্যান সিটির। যদিও ম্যাচের প্রথম ত্রিশ মিনিটে আরও অন্তত দুইটি সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেননি রহিম স্টারলিং ও ফার্নান্দিনহো। তবে ৩৫ মিনিটের সময় ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিকে বল জালে জড়িয়েছিলেন রদ্রি। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই গোল।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটের সময় পেনাল্টি থেকে ম্যাচে সমতা ফেরায় লিস্টার। ডি-বক্সের মধ্যে লিস্টারের ইংলিশ ফরোয়ার্ড জেমি ভার্ডিকে পেছন থেকে ফাউল করেছিলেন কাইল ওয়াকার। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিকে ম্যাচে সমতা আনেন ভার্ডি। ফলে ১-১ গোলের সমতায়ই আসে বিরতি।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে লিস্টার। ম্যাচের ৫৩ মিনিটের সময় ওপেন প্লে থেকে গোল করার পর ৫৮ মিনিটে আবারও পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ভার্ডি এবং পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক। এবারও তাকে ফাউল করায়ই পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ভার্ডির হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় লিস্টার।

ব্যবধান আরও বাড়ে ম্যাচের ৭৭ মিনিটের সময়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপান লিস্টারের ইংলিশ মিডফিল্ডার জেমস ম্যাডিসন। মিনিট সাতেক পর ম্যান সিটির পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন নাথাক আঁক। কিন্তু চার মিনিটের মধ্যে আবারও পেনাল্টি পায় লিস্টার। ইউরি তিয়েলেমানসের সফল স্পট কিকে ৫-২ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে তারা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা