• সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৪ ১৪২৭

  • || ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গ্র্যাজুয়েশনের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরল বাংলাদেশ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১  

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ বা গ্র্যাজুয়েশনের মানদণ্ড পূরণ ও উত্তরণের সুপারিশ লাভ করতে চলেছে বাংলাদেশ। এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করার লক্ষ্যে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি সময় অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) আসন্ন ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘এক্সপার্ট গ্রুপ সভা’র এক বৈঠকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএন-সিডিপি’র কাছে এই আহ্বান জানায়। অনলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ।

বৈঠকে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে সম্প্রতিক সময়ে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরেন ইআরডি  সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।

সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সিডিপি’র ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সব মানদণ্ড পূরণ করবে। একইসঙ্গে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষ হতে সিডিপি’র কাছে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর সময় প্রস্তুতির জন্য দিতে আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে, বাংলাদেশ গত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত সিডিপি’র সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছিল। জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দু’টি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করে।

সিডিপি’র প্রবিধান অনুযায়ী উত্তরণের সুপারিশ লাভের পর একটি দেশ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রস্তুতিকালীন সময় ভোগ করতে পারে। আগামী মাসে ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় উত্তরণের সুপারিশ লাভের পর পাঁচ বছর প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশন ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।

প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপনের সময় ইআরডি সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এমন একটি সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হতে চলেছে যখন সমগ্র জাতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। তিনি তার উপস্থাপনায় সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, তার ওপর আলোকপাত করেন। একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য যেসব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তা কাজে লাগানোর জন্য সরকার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে বা নেবে, তাও তিনি তার উপস্থাপনায় তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, জেনেভায় বাংলাদেশের জাতিসংঘ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইআরডি’র যুগ্মসচিব ও সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিডিপি’র সভাপতি হোসে আন্তনিও অকাম্পোসহ সিডিপি’র উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন গতিধারার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা