• বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭

  • || ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর ৫০টি গ্রামে গড়ে উঠেছে হোঁশিয়ারী শিল্প

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২০  

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার বনগ্রাম পেপুলিয়া, মুকুদপুর, ধারাইকান্দি, রতনপুর, ছয়ঘড়িয়া, জগদীশপুর, শক্তিপুর, কোচাশহর ও নয়ারহাটসহ ৫০টি গ্রামে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের হোঁশিয়ারি কারখানা, যা এতদঞ্চলের মানুষের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।

এ সমস্ত কুটির শিল্পে কাজ করে স্থানীয় দক্ষ এবং অদক্ষ প্রায় ৫ হাজার কারিগর। তাদের উৎপাদিত শীতবস্ত্র শুধু এতদঞ্চলের চাহিদাই মেটায় না বরং তা দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।হোসিয়ারি শিল্প-কারখানা ভিত্তিক সংগঠন ‘নয়াবন্দর কুটির শিল্প এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাট হচ্ছে এসব হোসিয়ারি শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বেচাকেনার সবেচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র।

এখানে প্রায় আড়াই শ’ শীতবস্ত্রের দোকান রয়েছে। প্রত্যেক দোকান মালিকের রয়েছে নিজস্ব কারখানা। যেখানে প্রতিদিন চলে খুচরা এবং পাইকারি বিক্রয়।ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানান, কোচাশহর ইউনিয়নের এসব কারখানায় সোয়েটার, কার্ডিগান, ব্লাউজ, মাফলার, মোজা, ছোটদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র তৈরি হয়। পশমী সুতায় তৈরি এসব শীতবস্ত্র ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের সর্বত্র সরবরাহ করা হয়। এখানে একটি মোজা তৈরির মেশিন নিয়েই যেমন একজন তার কারখানা শুরু করেছে, তেমনি আবার কেউ শতাধিক সোয়েটার তৈরির মেশিনসহ তার কারখানা চালু করেছে।

কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এমন কারখানা মালিকের সংখ্যাও কম নয়। এখানকার উৎপাদিত শীতবস্ত্র দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চাহিদার একটি বড় অংশই পূরণ করে থাকে।কোচাশহর বাজারে ঢাকার সিনহা গ্রুপের কারখানায় রফতানিমুখী শীতবস্ত্র উৎপাদিত হয়ে থাকে। ওই কারখানায় উৎপাদিত সোয়েটারসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র তৈরি করার পর তা ঢাকায় ফিনিশিং দিয়া বিদেশে পাঠানো হয়। ওই কারখানায় প্রাশ ৬শ’ সোয়েটার তৈরির আধুনিক মেশিন রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু তারাও সেখানকার শীতবস্ত্র ঢাকায় পাঠাতে পারছেন না বলে বিপুল পরিমাণ সোয়েটার এবং অন্যান্য শীতবস্ত্র কারখানার গুদামে পড়ে রয়েছে।

তবে শীতবস্ত্রের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিকুলতার ও করোনার মহামারীর কারনে  বিপাকে ফেলেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা সঙ্কটের মুখে পড়ে। ব্যবসায় এ ধরনের মন্দা অবস্থা গত ১৫ বছরে আর কখনও হয়নি। ক্রেতার অভাবে বেচাকেনা না হওয়ায় পুঁজি সঙ্কটে পড়েছে কারখানা মালিকরা। উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় এবারে শীতবস্ত্রে ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসার সংক্ষায় রয়েছেন। বিভিন্ন কারখানায় ১শ’ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শীতবস্ত্র গুদামজাত হয়ে পড়ে রয়েছে।

নয়ারহাটের কারখানা মালিক শাহাদুল ইসলাম জানান, এ সমস্ত বিকাশমান ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে স্থানীয় ব্যাংকগুলো কোন ঋণ প্রদান করে না। ফলে কারখানা চালাতে তাদের উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে ঋণ নিতে হয়। নয়তো ক্রেতাদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে শীত মৌসুমে তাদের উৎপাদন শুরু করতে হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এতে লাভের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। তদুপরি ব্যবসা ভাল না হলে ঋণগ্রস্থ হয়ে তাদের বিপাকেও পড়তে হবে ।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা