• শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

গান নয়, মূল আগ্রহ ছিল নাচে: রুনা লায়লা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। যিনি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, পপ ও আধুনিক সংগীতের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই তিনি চলচ্চিত্রের গায়িকা হিসাবে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় এবং পাকিস্তানী চলচ্চিত্রের অনেক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।

উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সুরকার রুনা লায়লা’র ৬৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন এই গায়িকা। প্রতিবার দিনটি সাধারণত বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়েই উদযাপিত হয়। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে জন্মদিনকে ঘিরে কোনো আয়োজনই থাকছে না।

কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার শিল্পী হয় ওঠার পেছনেও রয়েছে এক মজার ঘটনা। আসলে কিংবদন্তি এই গায়িকার গান নয়, চার বছর বয়সে মূল আগ্রহ ছিল নাচে। সেই বয়সেই নাচ শিখতেন রুনা লায়লা, গানের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ বা ভালোবাসা গড়ে ওঠেনি তখনো। বড় বোন দীনা লায়লাকে গান শেখাতে যে ওস্তাদ আসতেন, তার সামনেই খেলার ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মাঝে বসে যেতেন বোনের সঙ্গে। সেই ওস্তাদজিই একদিন তার মাকে জানালেন তাকে গান শেখানোর কথা। প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে ঐটুকু বয়সেই যে কোনো গান তুলে মুখস্থ করে ফেলতেন অনায়াসেই। আর সঙ্গে ছিল তাল লয় আর সুরের জ্ঞান।

এইসব গুণেই শিশু রুনা লায়লার মাঝে আগামীর শিল্পীর সম্ভাবনা হয়ত দেখেছিলেন সেই সংগীত শিক্ষক। তবে, মেধাবী হলেও শৈশবে প্রচণ্ড ফাঁকিবাজ ছিলেন বলে দাবি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই কণ্ঠসম্রাজ্ঞীর।

গান শেখা শুরু করার পর কখন যে এই ব্যাপারে এতটা সিরিয়াস হয়ে উঠেছিলেন তা নিজেও টের পান নি। খুব কম বয়সেই প্লেব্যাকের মাধ্যমে অল্পদিনেই খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেন রুনা লায়লা। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ও মা আমেনা লায়লার দ্বিতীয় সন্তান রুনা লায়লা ক্রমেই হয়ে ওঠেন উপমহাদেশীয় সংগীত জগতের এক বিস্ময়কর নাম।

প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারে মোট ১৮টি ভাষায় দশহাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। রুনা লায়লাই সম্ভবত একমাত্র শিল্পী যিনি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই তিন দেশেই সমান ভাবে জনপ্রিয়।

এই খ্যাতি দারুণভাবে উপভোগও করেন তিনি। ভক্তদের ভালোবাসাতেই আজ তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শ্রোতাদের জন্যই তিনি হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তী রুনা লায়লা। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। শুধু গানই নয়, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন রুনা লায়লা।

বসার ঘরের এক কোণার পুরোটা জুড়ে সাজানো তার অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার। সেগুলো মুগ্ধ চোখে দেখতে দেখতেই ছোটবেলার জন্মদিনের কথা চলে এলো। জিজ্ঞাসা করতেই স্মৃতিকাতর হয়ে জানালেন, শৈশবে তার কাছে জন্মদিন মানেই ছিল মায়ের হাতে সেলাই করা নতুন জামা। সেই জামা পড়েই বেশ ঘটা করে বন্ধুবান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে জন্মদিন পালন করতেন তিনি।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা