বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২১

গাইবান্ধায় সরকারি ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ নয়

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

দেশের প্রতিটি খাত ডিজিটালাইজড করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে অন্যান্য জেলার মতো গাইবান্ধা জেলারও প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। বিপুল টাকা ব্যয় করে এসব ওয়েবসাইট তৈরি করা হলেও সেখানে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার সব উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় রয়েছে ডিজিটাল সেন্টার। এসব সেন্টারের ওয়েবসাইটগুলো তদারকি ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে আছে জনবলও। ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফটোকপি মেশিন, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব সেন্টারের উদ্যোক্তাদের অজ্ঞতা, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করা হয় না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা ওয়েরসাইটগুলোতে তথ্যের বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে। এর মধ্যে- ভৌগলিক পরিচিতি, এলাকার পটভূমি, স্থানীয় সরকার, সরকারি অফিস-আদালত, কমকার্তা-কমচারীদের নাম-মোবাইল ফোন নম্বরসহ প্রোফাইল, অফিস কার্যক্রম, ই-সেবা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নানান তথ্য। এসব ক্যাটাগরিতে দুই-তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বিভিন্ন তথ্য আপলোড করা হয়। কিন্তু এরপর এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, এখনও সেখানে তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছামছুল হাসান ও আকতার বানুর নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে। অথচ কয়েক মাস আগে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দিদারুল ইসলাম মাসুদ ও ইসরাত জাহান স্মৃতি নির্বাচিত হলেও তাদের কোনো তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) ইমরুল কায়েস তিন বছর আগে বদলি হয়েছেন। ওয়েবসাইটে এখনও তার নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে। তারপর আরও দু’জন ওসি ওই থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ওসি হিসেবে দায়িত্বে আছেন মাসুদ রানা। কিন্তু তার নাম বা অন্যান্য তথ্য আজও ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা হয়নি।

সাঘাটা উপজেলার আনছার আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ না করায় সেবা প্রত্যাশীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। তাই জরুরি ভিত্তিতে ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

সাদুল্লাপুরের খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ফিরোজ কবির জানান, পরিষদের এতগুলো তথ্য তার একার পক্ষে হালনাগাদ করা সম্ভব নয়। তারপরও তিনি চেষ্টা করবেন।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, জেলার প্রতিটি ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে উদ্যোক্তাদের সম্প্রতি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
এই বিভাগের আরো খবর