• সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ২৯ ১৪২৭

  • || ২৯ শা'বান ১৪৪২

গাইবান্ধায় ভুট্টা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১  

গাইবান্ধার জেলার চরাঞ্চলসহ প্রত্যান্ত অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অল্পদিনে কম খরচে কৃষকরা অতি লাভবান হওয়ায় ভুট্টা চাষের দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কম পুজিঁ, ঝুঁকিহীন, সেচ ও সার প্রয়োগে সুবিধা বলেই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে রীতিমত ভুট্টা চাষের প্রতিযোগীতা চলছে। এবারে ভুট্টা চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ না হওয়ায় কৃষকরা বেশী বেশী ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার উৎপাদিত ভুট্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায়ও নেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

ফুলছড়ি চর এলাকার ভুট্টা চাষী আলী আহাম্মেদ জানান, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলে গ্রামীণ কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে। উন্নত জাতের ভুট্টা চাষ করে কৃষকরা প্রচুর টাকা আয়ের মাধ্যমে জীবন জীবিকায় অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলার মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে জানা যায়, রসুলপুর, নলডাঙ্গা, দামোদরপুর, জামালপুর, বনগ্রাম ও কামারপাড়া ইউনিয়নসহ অন্যন্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে আসছেন। এখানকার পরিবারগুলো ভুট্টা চাষ করে বেশী টাকা আয় করছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। ভুট্টা চাষীদের অনুকরণ করে অন্য চাষে নিয়োজিত কৃষকরাও বর্তমানে এ চাষের দিকে মনোযোগী হচ্ছেন।

সাঘাটা উপজেলাার ভুট্টা চাষী গণেষ চন্দ্র বলেন, মাত্র ৯০-১২০দিনের মধ্যে ভুট্টা বা মক্কা গোলার ফলন ঘরে তুলতে পারে। প্রতি বছর শীত কালীন মৌমুমে কৃষকরা ভুট্টা বীজ বপন করে থাকে। মৌসুমের শেষের দিকে এ ফলন বাজারে বিক্রি করে। বীজ মাটিতে বপন করে পুরো সিজনে শুধুমাত্র ১-২ বার জমিতে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ ক্ষেতে বিঘা প্রতি কৃষককে মাত্র ২-৩বস্তা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়।

গোবিন্দগঞ্জ এলাকার ভুট্টা চাষী খলিল মিয়া জানায়, একবিঘা জমিতে ১২হাজার ভুট্টার বীজ বপন করা যায়। একেকটি গাছে ২-৩টি ফল ধরে। সাধারণ কৃষকরাও ভুট্টা ক্ষেত করে সহজেই লক্ষাধিক টাকা আয় করছে। অন্য চাষের চাইতে ভুট্টা চাষে কল্পনাতীত টাকা আয় করা সম্ভব বলে তিনি জানান।  

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষক খয়বর রহমান বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগীতা ছাড়াই এখানকার কৃষকরা অন্য ফসলের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করে আসছে। কৃষি অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলেই কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হবে।

সাদুল্লাপুর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নাছের উদ্দিন বলেন, নতুন জাত সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করে যাচ্ছি। যে কোন চাষে কৃষকদের কারিগরী সহায়তা প্রদানে আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।    

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শওকত ওসমান এসব তথ্য সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভৌগলিক অবস্থায় গাইবান্ধা অঞ্চলের জমিগুলো ভুট্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগি। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৮০ হেক্টর। তা ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার হেক্টর।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা